শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নে যাচ্ছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স
ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি ইসলামিক ফাইন্যান্স উইন্ডোর মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়ন কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন এ সেবা চালু করা হবে। তবে শরিয়াহভিত্তিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত অর্থায়ন কার্যক্রমও আগের মতো চলবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন মিললেই ইসলামিক ফাইন্যান্স উইন্ডোর কার্যক্রম শুরু করবে আইপিডিসি।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সুদ আয় হয়েছে ৪৮৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪৬৪ কোটি টাকা থেকে বেড়েছে। এ সময় কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি টাকা, যেখানে এক বছর আগে ছিল ১৫ কোটি টাকা। ফলে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ৪৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ১ পয়সা।
২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সুদ আয় বেড়ে ৮৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ৭৯১ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। এ সময় কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪ অর্থবছরের ৩৬ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১৭ টাকা ৮৫ পয়সা।
২০২৫ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। একই ধরনের লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল ২০২৪ ও ২০২৩ অর্থবছরেও।
ঋণমানের দিক থেকেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল) প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-১’ পুনর্নিশ্চিত করেছে। ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ রেটিং দেওয়া হয়েছে।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪২৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির রিজার্ভ রয়েছে ২৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মোট ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৪০ শতাংশ। সরকারের মালিকানায় রয়েছে ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে অবশিষ্ট ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার।