চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন কারখানা নির্মাণ করছে এমইপি গ্রুপ। ১০ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এ কারখানায় লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান, কেবলসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কারখানাটি চালু হলে এমইপির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন খাতের স্থানীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করাই এ বিনিয়োগের অন্যতম লক্ষ্য।
এমইপির এ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাজারে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নতুন উৎপাদন অবকাঠামো এ খাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগও তৈরি করতে পারে।
এ বিনিয়োগের বিষয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এমইপি বাংলাদেশের পুরনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক কারখানা উন্নত মানের এবং বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, নতুন কারখানাটি শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প নয়; পণ্যের মান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও গ্রাহকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে প্রতিষ্ঠানের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
কারখানা নির্মাণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নিয়েছে এমইপি। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে পণ্য ও বাজারসংক্রান্ত মতবিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে ৮০ জন বিজয়ীর মধ্যে ৭৮টি মোটরসাইকেল ও দুটি ফ্রিজ বিতরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, মিরসরাইয়ের নতুন কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পণ্য উন্নয়নের সক্ষমতাও তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় বৈদ্যুতিক পণ্য শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।![]()