অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করল ব্যাংক এশিয়া, দাঁড়াল ৩ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া পিএলসি তাদের অনুমোদিত শেয়ার মূলধন দ্বিগুণ করেছে। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, আগে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১৫০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ছিল ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত অনুমোদিত মূলধন ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
মূলধন বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানির সংঘস্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন) ধারা-৫ এবং সংঘবিধির (আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন) ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। এসব সংশোধনীও আরজেএসসি অনুমোদন ও প্রত্যয়ন করেছে।
অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শেয়ার ইস্যু, মূলধন জোগান এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যাংকটির জন্য অধিক সুযোগ তৈরি করবে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এ সিদ্ধান্তে ব্যাংকটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধনে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসছে না।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৯২ পয়সা।
সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ এবং ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ওই বছর ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ১৮ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৭ টাকা ৪২ পয়সা।
এর আগে ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় ব্যাংকটি, যার মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় হয় ২ টাকা ১৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৭ টাকা ২৮ পয়সা।
২০২৩ হিসাব বছরে ব্যাংকটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। সে সময় শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৭৯ পয়সা এবং নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৫ টাকা ২২ পয়সা। আর ২০২২ হিসাব বছরে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের বিপরীতে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৪ টাকা ৪১ পয়সা।
ঋণমান মূল্যায়নে ব্যাংক এশিয়া দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ রেটিং ধরে রেখেছে। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল) ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ রেটিং দিয়েছে।
২০০৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ব্যাংক এশিয়ার বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার ১২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট ১৩৯ কোটি ১৫ লাখ ৯ হাজার ৮৩৭টি শেয়ারের মধ্যে ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৮ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার।
![]()