মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান হলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। দেশের জ্বালানি খাতের নীতি নির্ধারণ, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ শিক্ষাবিদকে কোম্পানিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসির ৭৯৭তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় ড. ম. তামিমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।
ড. ম. তামিম দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক এবং বর্তমানে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি পরিকল্পনা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তার গবেষণা ও মতামত দেশ-বিদেশে সমাদৃত।
জ্বালানি খাতের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি হিসেবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, কেরোসিন, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানি তেল বিপণনের দায়িত্ব পালন করে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে করপোরেট সুশাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আর্থিক দিক থেকে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির মুনাফায় চাপ দেখা গেলেও এর শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি এখনো বজায় রয়েছে। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ৫১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৮ টাকা ৬ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে দাঁড়িয়েছে ৩০০ টাকা ২ পয়সা, যা কোম্পানির শক্তিশালী সম্পদভিত্তির প্রতিফলন।
এর আগে ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যা দেশের পুঁজিবাজারে অন্যতম উচ্চ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬১ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছরের ৫০ টাকা ১১ পয়সা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৮ টাকা ৫১ পয়সা।
এর আগের বছরগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে আকর্ষণীয় নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে ১৭০ শতাংশ, ২০২২-২৩ হিসাব বছরে ১৬০ শতাংশ এবং ২০২১-২২ হিসাব বছরে ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি বছরেই শেয়ারপ্রতি আয় ও নিট সম্পদমূল্যে ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে, যা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা পেট্রোলিয়ামের অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০৮ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮৯৪ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা এর শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি।
বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ১০ কোটি ৮২ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার সরকারের মালিকানায় রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে অবশিষ্ট ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ শেয়ার।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের জ্বালানি খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মধ্যে একজন অভিজ্ঞ জ্বালানি বিশেষজ্ঞকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া মেঘনা পেট্রোলিয়ামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মনে করছেন।![]()