সেবাধর্মী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) আরও কার্যকর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী। তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে প্রতিষ্ঠানের সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি আয়ও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
আজ দুপুরে বিআইডব্লিউটিসির সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়, ঘাট স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জুম অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত হন।
সভায় চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম, আয়-ব্যয়, সেবার মান, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মাঠপর্যায়ে বিআইডব্লিউটিসির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী, পরিচালক (অর্থ) শেখ মু. নাসিম, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জেসমিন আরা বেগম, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আজমল হোসেন, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) ফজলুল হক এবং মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) ক্যাপ্টেন বাপ্পী কুমার অধিকারী।
এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চিফ পারচেজ অফিসার মানসুরা আহমেদ, সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেলুজ্জামান, বিভিন্ন পর্যায়ের উপমহাব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী বিআইডব্লিউটিসির প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ঘাট স্টেশনের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব কার্যালয় ও ঘাটের সেবার ধরন, আয়-ব্যয়ের চিত্র, পরিচালনাগত সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পরিকল্পনা ও প্রতিবেদন দাখিলের আহ্বান জানান তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র জানতে হলে শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করলে হবে না। আঞ্চলিক কার্যালয় ও ঘাট স্টেশনগুলোতে সরেজমিনে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, কোথায় সেবার ঘাটতি আছে, কোন খাতে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এবং কোথায় ব্যয় কমানো সম্ভব—এসব বিষয় চিহ্নিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, সেবাধর্মী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সবাই যদি সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য সেবার মান উন্নত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিসি দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের জন্য নিরাপদ, নিয়মিত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেকে যদি নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে বিআইডব্লিউটিসির বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রম, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। চেয়ারম্যান এসব বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।![]()