ফরিদ আহমেদ রনি
প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নিজস্ব ক্যান্ডিডেট নমিনেশন দেওয়া বিরোধীদলের একটা পলিটিক্যাল ভুল ডিসিশন।
এটা ইতোমধ্যে পরিষ্কার, বিএনপি তার দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে থেকেই তাদের প্রার্থীকে বাছাই করবে। ফলে, বিরোধীদল থেকে এখানে নিজস্ব ক্যান্ডিডেট না-দিয়ে যুৎসই স্ট্রেটেজি নিতে পারতো।
প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় লোককে নমিনেশন দেওয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ন্যারেটিভ বুস্ট করতে পারতো, যা তারেক রহমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি দূর্বল করে দিতো।
এখন বিএনপি যাকেই সিলেক্ট করুক না কেন, বিরোধীদল আর পলিটিক্স করার সুযোগ থাকতেছে না।
তারা একটা গেইম খেলতে পারতো প্রেসিডেন্ট নিয়ে। সেটা তারেক রহমানের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের টেবিলে বসা।
তারেক রহমানকে এটা বলেই দর-কষাকষি করতে পারতো, দেখেন, আমাদের পক্ষ থেকে ক্যান্ডিডেট দেওয়া, কিংবা না দেওয়ার মধ্যে কোনো সিগনিফিক্যান্স নাই। বরং প্রার্থী দেয়া অপ্রয়োজনীয়, সেটা আপনিও জানেন আমরাও জানি।
আসেন আমরা একসাথে সমন্বয় করে এমন একজন ব্যক্তি বাছাই করি, যিনি আমাদের দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আপনার সরকার পরিচালনার কাজেও সহায়ক হবেন।
দেশে এবং বাহিরে গ্রহণযোগ্যতা আছে এমন একজন ব্যক্তি ঠিক করি আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে। আপনার সরকারে ফরেন পলিসি (মাই কান্ট্রি ফার্স্ট)-র বাস্তবায়নেই গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করতে পারবেন।
দেশে পলিটিক্যাল কোনো ক্রাইসিস তৈরি হলে স্বীয় বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশের জন্যই মঙ্গলজনক ডিসিশন নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, এমন একজন নিউট্রাল ব্যক্তি আমরা ঠিক করি।
আমার ধারণা, তারা নেগোসিয়েশনের টেবিলে বসে তারেক রহমানকে কনভিন্স করতে পারতেন। যদি তা না-ও পসিবল হতো তারপরও তারেক রহমানকে প্রার্থী সিলেকশনে ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিকভাবে দূর্বল করে দিতে পারতো। দলীয় ব্যক্তিকেই নমিনেশন দেবেন না-কি নিউট্রাল কাউকে ঠিক করবেন, এ নিয়ে তিনি দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যেতেন।
তারেক রহমানকে গত ৪-৫ বছরে আমি যতটুকু রিড করতে পেরেছি, আমার নলেজ তা-ই বলে।
এমনকি শেষ পর্যন্ত দলীয় ব্যক্তিকে তিনি নমিনেশন দিলেও বিরোধীদল শুরু থেকেই গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পলিটিক্স দাঁড় করাইতে পারতো দেশবাসীর সামনে।
‘আমরা আহ্বান করেছিলাম, দেশের স্বার্থে এমন একজন নিউট্রাল ব্যক্তিকে বাছাই করি, যিনি দেশের ভেতরে এবং বাহিরেও বেশ গ্রহণযোগ্যতা রাখেন। তিনি আমাদের কথা শুনলেন না। তিনি দলীয় লোককেই প্রেসিডেন্ট বানালেন।’
বিরোধীদল এ অপরচুনিটি হারাচ্ছে অলি আহমদকে প্রার্থী দিয়ে।
সামনে যাকেই তারেক রহমান সিলেক্ট করুক বিরোধীদলের আর নৈতিক ভিত্তি থাকবে না যে এর বিরোধীতা করা, তিনি দলীয় ব্যক্তিকে নমিনেশন দিলেন। কজ তারাও দলীয় ব্যক্তি তথা শরিক দলের একজন প্রধানকে সিলেক্ট করছে।
বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ার পেছনে একটাই ইতিবাচক যুক্তি থাকতে পারে, সেটা হলো নিজেদের ভোটকে প্রিজার্বড করে রাখা। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থীকেই ভোট না দিয়ে/সমর্থন না করে নিজেদের প্রায় ৯০টি ভোট নিজেদের বাক্সে রাখা, তা ভবিষ্যতে পর্যালোচিত হবে, বিরোধীদল হয়ে তারা সরকারি দলের দলীয় প্রার্থীকে সর্বসম্মতি দেন নাই প্রেসিডেন্ট পদে।
বাট এটাকে ভিন্নভাবেই হ্যান্ডেল করা যেত, সেটা হলো ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। আর সবচে বড়কথা হলো, প্রার্থী একজনই হলে তখন আর ভোটেরই প্রয়োজন হতো না।
আমার মতের সঙ্গে আপনার দ্বিমত থাকতে পারে, হয়তোবা জামায়াত-শিবিরের কর্মী সমর্থকেরা এসে এগ্রেসিভ কমেন্ট করতে পারেন, বাট জেনে রাখেন, আমার এই পর্যালোচনা যে সঠিক, সেটা একদিন আপনারাই বলে বেড়াবেন।
পলিটিক্যাল ডিসিশন নেয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীদল ইম্যাচিউর।
এই লেখায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতি বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থানের মিল থাকা আবশ্যক নয়।
![]()