নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এ সুবিধা পাবেন। এ জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩০১টি গির্জা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসেই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত সেলের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় চলতি অর্থবছরে সম্মানী ভাতার আওতায় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদকে সম্মানী ভাতার জন্য নির্বাচন করা হবে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ এ সুবিধার আওতায় আসবে।
মন্দির নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি মন্দির নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট মন্দির ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বাছাই করা হবে। অন্যদিকে বৌদ্ধবিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মীয় নেতারা মাসিক নির্ধারিত হারে সম্মানী পাবেন। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক প্রত্যেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজকের মাসিক সম্মানী ৩ হাজার টাকা। আর মসজিদের খাদেম পাবেন মাসে ২ হাজার টাকা।
সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই নির্ধারিত ব্যক্তিদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মীকে সম্মানী দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
নতুন অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৮৬ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি বড় ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।