মাত্র ২৪ বছর বয়সেই প্রায় ৯৭ হাজার মার্কিন ডলার সঞ্চয় করেছেন ব্রিটিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিয়া ম্যাকগ্রা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। তবে এতেই থামতে চান না তিনি। ৪০ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় করে আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন এই তরুণী। তাঁর পরিকল্পনা, আগেভাগেই কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়া এবং বিনিয়োগের অর্থের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করা।
এই লক্ষ্য পূরণে মিয়া অনুসরণ করছেন কঠোর সঞ্চয়নীতি। প্রতিদিনের ছোটখাটো খরচ কমিয়ে যতটা সম্ভব অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করাই তাঁর মূল কৌশল। এমনকি সকালের নাশতার ক্ষেত্রেও তিনি ব্যয়ের বিষয়ে বেশ সচেতন।
মিয়ার প্রতিদিনের নাশতা সাধারণত একই—স্ক্র্যাম্বলড ডিম ও অর্ধেক ব্যাগেল। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এই নাশতা তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ৬৫ সেন্ট। বাইরে গিয়ে দামি নাশতা বা কফি খাওয়ার পরিবর্তে বাড়িতেই খাবার তৈরি করেন তিনি।
তবে শুধু কম খরচের নাশতা খাওয়াই তাঁর বড় সঞ্চয়ের রহস্য নয়। মিয়া বর্তমানে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। ফলে বাড়িভাড়া দিতে হয় না তাঁকে। বাইরে খাবার খাওয়া, ক্যাফেতে যাওয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় সামাজিক খরচও যথাসম্ভব এড়িয়ে চলেন। অধিকাংশ খাবারই তিনি বাড়িতে রান্না করেন।
পোশাক কেনার ক্ষেত্রেও মিয়ার পছন্দ সাশ্রয়ী। নতুন পোশাক কেনার পরিবর্তে তিনি পুরনো বা সেকেন্ড-হ্যান্ড পোশাক কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। হঠাৎ কোনো কিছু ভালো লেগে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রয়োজন আছে কি না, কেনার পর সেটি কতটা ব্যবহার হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন।
মিয়ার আয়ের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত তিনি সঞ্চয় করেন। শুধু ব্যাংকে অর্থ জমিয়ে রাখার পরিবর্তে নিয়মিত বিনিয়োগও করেন। প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডলার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন তিনি। অর্থাৎ বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় যতটা সম্ভব কম রেখে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা তৈরিতে আয়ের বড় একটি অংশ ব্যবহার করছেন।
মিয়ার কাছে প্রতিদিন একই সস্তা নাশতা খাওয়া কিংবা বাইরে খাওয়া এড়িয়ে চলা কোনো কষ্টের বিষয় নয়। বরং এগুলোকে তিনি নিজের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে পৌঁছানোর অংশ হিসেবে দেখেন। তাঁর যুক্তি, ছোট ছোট খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দীর্ঘ সময়ে সেটিই বড় অঙ্কের সঞ্চয়ে পরিণত হয়।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ার সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ৯৭ হাজার ডলারে পৌঁছায়। এত অল্প বয়সে এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারায় তাঁর আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এখন মিয়ার সামনে আরও বড় লক্ষ্য—৪০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই প্রায় ১৫ লাখ ডলারের সম্পদ গড়ে তোলা। তাঁর ধারণা, এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতে পারলে নিয়মিত চাকরি বা নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর না করেও জীবন চালানো সম্ভব হবে।
তবে মিয়ার এই জীবনযাপন শুধু অর্থ জমিয়ে রাখার পরিকল্পনা নয়; বরং তিনি সঞ্চয় করা অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাড়াতে চান। তাঁর লক্ষ্য হলো এমন একটি আর্থিক ভিত্তি তৈরি করা, যেখানে বয়স ৪০ হওয়ার পর জীবিকা নির্বাহের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে চাকরি করতে হবে না।
মিয়ার গল্প তরুণদের মধ্যে নতুন করে একটি প্রশ্নও সামনে আনছে—কম বয়সে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব? মিয়া সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নিজের জীবনযাপনেই। কম খরচে থাকা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলা, আয়ের বড় অংশ সঞ্চয় করা এবং নিয়মিত বিনিয়োগ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তাঁর লক্ষ্য পূরণ হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ আয়, বিনিয়োগের রিটার্ন, বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। তবে ২৪ বছর বয়সেই প্রায় ৯৭ হাজার ডলার সঞ্চয় করে তিনি যে আর্থিক শৃঙ্খলার নজির তৈরি করেছেন, সেটিই তাঁর ৪০ বছর বয়সের আগেই আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি।