বিশেষ প্রতিনিধি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির দায়িত্ব পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। নতুন দায়িত্ব ও মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে আজ অথবা আগামীকাল প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ছয় মাসে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্পন্ন কাজ, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে দুই মন্ত্রী বর্তমান দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ করেছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যাচ্ছেন। অন্যদিকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দায়িত্ব নেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। আগামী সপ্তাহ থেকে দুজনই পরিবর্তিত মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ও সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে গত ছয় মাসের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মাদক ও জুয়াকে সমাজের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদক নির্মূলে ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বেশ কিছু কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ছয় মাসে পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর চলমান অর্থবছরের বাজেটের খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ও প্রতিবেদনে গত ছয় মাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে আগাম যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করার কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বর্তমানে ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান অর্থবছরের বাজেটে ৭ হাজার ৮৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বৈঠকে প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থের খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা পরিষ্কার করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বরাদ্দ অর্থের সর্বোচ্চ দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের মাধ্যমে দুই মন্ত্রীর সামনে নতুন ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে যাওয়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সামনে আইনশৃঙ্খলা, মাদক, জুয়া, পুলিশ প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থাকবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় ও বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে হবে।
দায়িত্বের এই পরিবর্তনকে প্রশাসনিকভাবে নতুন সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই মন্ত্রীই নতুন মন্ত্রণালয়ের চলমান কাজের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন দায়িত্বে তাঁরা দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জনকল্যাণে ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।