ইরানে আমদানি করা উন্নতমানের পেট্রোলের দাম আরও বাড়ছে। আগামী ১৯ আগস্ট দেশটির জ্বালানি এক্সচেঞ্জে ২ লাখ ৪০ হাজার লিটার উন্নতমানের পেট্রোল বিক্রি করা হবে। সরকারের বিক্রির জন্য নির্ধারিত এই জ্বালানি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।
ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা নিউজ জানিয়েছে, জ্বালানি এক্সচেঞ্জে প্রতি লিটার উন্নতমানের পেট্রোলের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ইরানি রিয়াল। মার্কিন ডলারের হিসাবে এর দাম প্রতি লিটারে প্রায় শূন্য দশমিক ৪৮ ডলার।
রোববার ইরনা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিলামে এই পেট্রোলের সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫০ রিয়াল। সর্বোচ্চ দাম উঠতে পারে ৯ লাখ ৪১ হাজার ৮৫০ রিয়াল পর্যন্ত।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো আমদানি করা পেট্রোল বিক্রি করেছিল ইরান। তখন প্রতি লিটারের দাম ছিল ৬ লাখ ৫৮ হাজার রিয়াল। অর্থাৎ এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে আমদানি করা পেট্রোলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিকে জ্বালানির উচ্চমূল্যের পাশাপাশি ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
রাজধানী তেহরানের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী সাঈদ আলজাজিরাকে বলেন, নিজের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তিনি হতভম্ব। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও ওই আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি এখন বেশি বেতনের চাকরি খুঁজছেন।
সাঈদের ভাষ্য, দেশটির চাকরির বাজারও বর্তমানে বেশ সংকুচিত। অনলাইনে কিংবা সরাসরি—যেকোনোভাবে চাকরি খুঁজতে গেলেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায়। অনেক তরুণ-তরুণী কাজ খোঁজাকেও এখন অর্থহীন মনে করছেন।
তিনি জানান, শিক্ষক, ক্যাশিয়ার ও বিক্রয়কর্মীদের মতো পেশায় মাসিক আয় প্রায় ২০ কোটি ইরানি রিয়াল বা ১০৭ ডলার। আবার কিছু চাকরিতে মাসে মাত্র ১৬ কোটি ৬০ লাখ রিয়াল বা প্রায় ৮৮ ডলার দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই আয় ১৫ হাজার টাকারও কম।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি সহায়তা ও মাসিক বেতন মিলিয়ে একজন সাধারণ কর্মী যে অর্থ পান, সেখান থেকে মাত্র এক কেজি ভেড়ার মাংস কিনতেই তার মাসিক আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ ব্যয় হয়ে যায়। আর ১০ কেজি ইরানি চাল কিনলে খরচ হয় মোট আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
এতে দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কতটা বেড়েছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায়। শুধু খাদ্যপণ্য নয়, বাড়িভাড়াও দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, যাতায়াত এবং চিকিৎসা ব্যয়ও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ফলে একদিকে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা। অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের দুর্বলতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।