এআইয়ের চাহিদায় উড়ছে স্যামসাংয়ের চিপ ব্যবসা, লোকসানে মোবাইল বিভাগ
বণিক বার্তা অনলাইন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল পাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ব্যবসায় পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ২৫০ শতাংশের বেশি। তবে একই সময়ে মোবাইল ও নেটওয়ার্ক বিভাগ লোকসানে পড়েছে।
স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওনে। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৭৯ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন। অর্থাৎ প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল করেছে কোম্পানিটির চিপ ব্যবসা।
এ সময়ে স্যামসাংয়ের মোট নিট মুনাফা হয়েছে ৭১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন। এআই ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপ, বিশেষ করে উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) এবং উন্নত স্টোরেজ চিপের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ ব্যবসায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি এসেছে।
স্যামসাং জানিয়েছে, এআই সার্ভারের জন্য প্রয়োজনীয় চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপের ঘাটতি এখনো রয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের গবেষণা পরিচালক এমএস হুয়াং বলেন, ডিআরএএম মেমোরি বাজারে স্যামসাং নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করছে। মেমোরি ব্যবসায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রযুক্তি খাতে নিজেদের বাজার অংশীদারত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে স্যামসাংয়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সও চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা ৫৫৭ শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। তবে তাদের ফলাফলও বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিস্তার আগামী কয়েক বছর উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপের চাহিদা ধরে রাখতে পারে। ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের ফলে চিপ নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে এ খাতে ঝুঁকিও বাড়ছে। বিপুল বিনিয়োগ, ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। এআইনির্ভর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।