স্টার্টআপ খাতে সরকারি বিনিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেছেন, গত ছয় মাসে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে সরকারি বিনিয়োগের নজির নেই। ভবিষ্যতেও উদ্যোক্তার রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও বিনিয়োগযোগ্যতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত ‘ফান্ড অব ফান্ডস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ চালু করেছে সরকার। অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এ তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, এটি দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, এ তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় মূলধনের পাশাপাশি দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দক্ষতা, সুশাসন ও পেশাদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ পরিচালনা করা হবে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও স্টার্টআপে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, উদ্যোগটি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; এর বাস্তব ফল নিশ্চিত করতে হবে। এই তহবিলের মাধ্যমে দেশে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধন আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঁঞা। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন যাতে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে, সরকার সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামো গড়ে উঠবে।
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই অনুষ্ঠানে তহবিলটির কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচনের প্রক্রিয়া, বিনিয়োগ পদ্ধতি ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত এক দশকে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। তবে এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ। ফলে দেশে স্টার্টআপ খাতে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
‘ফান্ড অব ফান্ডস’ মূলত স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পের বিকাশ এবং স্টার্টআপের জন্য একটি টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। বিভিন্ন পর্যায়ের স্টার্টআপকে অর্থায়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের স্টার্টআপ খাতে অর্থায়নের বড় একটি সীমাবদ্ধতা হলো স্থানীয় বিনিয়োগের স্বল্পতা। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে এ খাত আরও স্থিতিশীল ভিত্তি পেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন ও পেশাদার সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোক্তাদের আস্থাও বাড়বে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ আরও শক্তিশালী হবে বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়োকো, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।