নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের প্রচলিত সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, শিল্পী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৭৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাফেরার ওপর নির্দিষ্ট সময়ের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা বৈষম্যমূলক।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে নারীদের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ না করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিরাপদ জনপরিসর নিশ্চিত করা এবং অপরাধের দ্রুত বিচার করা। নারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে ফিরতে বাধ্য করা কোনোভাবেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর সমাধান হতে পারে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, টিউশনি, চাকরি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অনেক শিক্ষার্থীকে রাতে হলে ফিরতে হয়। আবার অসুস্থ হয়ে রাতে হাসপাতালে যাওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকার ক্ষেত্রেও সান্ধ্য আইন তাঁদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে ফেলে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাক্ষরকারীরা আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে শিক্ষার্থীরা প্রচলিত সান্ধ্য আইন অমান্য করে রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁদেরই এখন একই ধরনের বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হচ্ছে। তাঁদের মতে, এ বাস্তবতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচলের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার দাবি রাখে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু নারী হওয়ার কারণে রাতের বেলায় চলাফেরার ওপর আলাদা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা বৈষম্যের প্রশ্ন তৈরি করে। রাতে বাইরে থাকা যদি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে সমাধান হওয়া উচিত রাতের জনপরিসরকে নিরাপদ করা। নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করে নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা করা দীর্ঘমেয়াদি বা ন্যায়সংগত সমাধান নয়।
স্বাক্ষরকারীরা ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করার যে নীতিগত ভিত্তি রয়েছে, তার সঙ্গে ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রী হলগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, শিল্পী সায়ান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ এবং আইনজীবী মানজুর আল মতিনসহ ৭৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক।