চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৬ দিনেই দেশে ১ দশমিক ৭৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১ দশমিক ২৬৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রথম ১৬ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির যে ধারা তৈরি হয়েছে, আগস্টের প্রথমার্ধেও তা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৪ দশমিক ৬৪৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৭৪২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯০৫ মিলিয়ন ডলার বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।
জুলাই মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আগস্টের প্রথম ১৬ দিনে ১ দশমিক ৭৮৮ বিলিয়ন ডলার আসায় অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাধারণত ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব ও পারিবারিক প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধিও এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।![]()
রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রয়োজনীয় ডলারের জোগানেও ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষার সক্ষমতাও শক্তিশালী হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে আসার পরিমাণ বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এতে আমদানি দায় পরিশোধসহ বৈদেশিক লেনদেনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
রেমিট্যান্সের প্রভাব শুধু বৈদেশিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এসব পরিবারের হাতে রেমিট্যান্সের অর্থ পৌঁছালে তাদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার সক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হয়। ফলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে যে গতি দেখা যাচ্ছে, তা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৬৪৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসার বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৩ দশমিক ৭৪২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র ৪৭ দিনে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০৫ মিলিয়ন ডলার বেশি এসেছে।
বিশেষ করে আগস্টের প্রথম ১৬ দিনের প্রবৃদ্ধি রেমিট্যান্স খাতে ইতিবাচক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত বছরের আগস্টের প্রথম ১৬ দিনে যেখানে ১ দশমিক ২৬৪ বিলিয়ন ডলার এসেছিল, এবার একই সময়ে এসেছে ১ দশমিক ৭৮৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এবার ৫২৪ মিলিয়ন ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই করা সম্ভব। এজন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হলেও এর সুফল ধরে রাখতে নীতিগত ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় যদি উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, তাহলে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণেও রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হওয়ায় বৈদেশিক খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগস্টের বাকি দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাসিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ের যে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি তৈরি হয়েছে, তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।![]()