যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ এক সপ্তাহে ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। রফতানি কমে যাওয়া এবং আমদানি বেড়ে যাওয়ায় মজুদের এ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বাদে দেশটির বাণিজ্যিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৪৪ লাখ ব্যারেলে। এর আগের সপ্তাহে মজুদ ছিল ৪০ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল। ফলে এক সপ্তাহে মজুদ বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
মজুদের এ প্রবৃদ্ধি বাজারের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, ওই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। বিপরীতে বাস্তবে মজুদ বেড়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল। জানুয়ারি ২০২৩-এর পর এটিই দেশটির সাপ্তাহিক মজুদের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি।
মজুদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবাহে পরিবর্তন। ওই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল রফতানি দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ২৭ হাজার ব্যারেল কমে ৩০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর এটি ছিল সর্বনিম্ন রফতানি। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের আমদানি দৈনিক প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৭৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। ফলে বাজারে সরবরাহ হওয়া তেলের বড় একটি অংশ দেশের ভেতরেই জমা হয়েছে।![]()
রফতানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কানাডা ও ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহও বেড়েছে। কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ মার্কিন বন্দরে পৌঁছানোর পর সেগুলো থেকে তেল খালাসের সময়ের সঙ্গেও এবারের মজুদ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে এক সপ্তাহের তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ-চাহিদার পরিবর্তনের সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ রয়েছে।
এদিকে অপরিশোধিত তেলের মজুদ বাড়লেও শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিক ছিল। সপ্তাহটিতে শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ দৈনিক ২৬ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। তবে শোধনাগার ব্যবহারের হার দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৯৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়।
অপরিশোধিত তেলের বিপরীতে পরিশোধিত জ্বালানির মজুদ কমেছে। গ্যাসোলিনের মজুদ প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমে ২০ কোটি ৮৭ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ মধ্যম পাতনজাত জ্বালানির মজুদও প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমেছে।
মজুদের বড় ধরনের বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে চাপ তৈরি হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দামের ওপর এর প্রভাব সীমিত ছিল। পরবর্তী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ আরও ৪৪ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪২ কোটি ৮৮ লাখ ব্যারেলে উঠেছে, অর্থাৎ মজুদ বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে সর্বশেষ তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলের মজুদকে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। রফতানি ও আমদানির সাপ্তাহিক ওঠানামা, জাহাজের আগমন ও তেল খালাসের সময় এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও মজুদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের মজুদ, রফতানি ও আমদানির প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।![]()