বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব।
বৃহস্পতিবার জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ২৩তম বিশেষ অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বহুমাত্রিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দুই পক্ষ নিজেদের অঙ্গীকারের কথা জানায়।
বৈঠকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা একটি চিঠি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফর হয়েছে। বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও উচ্চপর্যায়ের সফরের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশে সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তে থাকা আগ্রহের কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে রিয়াদ আগ্রহী। বিশেষ করে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের অর্থনৈতিক গুরুত্ব শুধু বিনিয়োগ বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির বিভিন্ন খাতের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে। বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন খাতে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ককে রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের দিক থেকেও আরও শক্তিশালী করার বার্তা পাওয়া গেছে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং প্রবাসী কর্মীদের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন করে সৌদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে পারলে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।![]()