রাজনীতিবিদ ও মডেল মেঘনা আলম বলেছেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি।’ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা অপবাদ ও সমালোচনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এ দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মেঘনা আলম লেখেন, “আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি। তবুও আমাকে কত অপবাদ, ধর্মীয় লেবাসে না থাকার জন্য।”
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও অপবাদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় পোশাক বা লেবাস অনুসরণ না করার কারণে তাকে নানা ধরনের অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
পোস্টের পরের অংশে মেঘনা আলম সমাজে ধর্ম ও নৈতিকতার বিষয়টি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, “অথচ ইসলাম ও নৈতিকতার মুখোশ পরে কিছু দলের প্রধান নেতারা পর্দাশীল, বোরকা পরা নারীদের …‘দুগ্ধের চিনি’… খেতে চায়, অডিও ক্লিপ ভাইরাল। তাদেরই আবার ‘মাসুম’ বা নির্দোষ হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় পরিচয় ও নৈতিকতার কথা বলা ব্যক্তিদের আচরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে সমাজের ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নারীর পোশাক ও ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে অপবাদ দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মেঘনা আলমের পোস্টের শেষ দিকে ছিল একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন—“এ কেমন দুনিয়া?”
তার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তার সরাসরি বক্তব্য এবং ধর্মীয় পোশাকের সঙ্গে নারীর চরিত্রকে বিচার করার প্রবণতার সমালোচনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মেঘনা আলম এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্র নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন। তার সাম্প্রতিক পোস্টেও মূলত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে বিচার করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
একজন জনপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে মেঘনা আলমের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা নতুন নয়। তবে এবার তিনি নিজেই সরাসরি নিজের অবস্থান জানিয়ে তার বিরুদ্ধে ছড়ানো অপবাদের জবাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে সমাজে ধর্মীয় পরিচয়, নৈতিকতা এবং নারীর ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে প্রচলিত দ্বৈত মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।