বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অঙ্গীকার ও ওয়াদা রক্ষা করাই বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি। জনগণের ভোটে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে। বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণকে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছিলেন ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। অথচ শেখ হাসিনার আমলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি অবস্থায় রেখে গেছেন। কোথায় ঘরে ঘরে চাকরি? কোথায় বিনামূল্যে সার?’
রিজভী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেসব প্রতিশ্রুতির অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রতারণা, ভণ্ডামি ও মিথ্যা আশ্বাস আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল।
বিএনপির বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা বর্তমানে সংসদ সদস্য। তাঁদের মাধ্যমে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৩ লাখ কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ ও আসল মওকুফ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
নির্বাচনের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, মোয়াজ্জিন, ইমাম এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তারেক রহমান দিয়েছিলেন, তা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রিজভী বলেন, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল। ছয় মাসে প্রায় আড়াই কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য থাকলেও এরই মধ্যে প্রায় তিন কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। একইভাবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে গত ছয় মাসে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। তবে কোনো ধরনের শর্তের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব হতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু কোনো শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না।’
রিজভী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের যে প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাই সম্পর্কের ভিত্তি হবে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি গোপন বা অপ্রকাশ্য কোনো শর্ত থাকে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ‘ভেতরে যদি কোনো শর্ত থাকে, তাহলে সেই শর্ত দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্ব হবে, আমরা প্রত্যেকের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করব, প্রত্যেকের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করব।’
জনকল্যাণকে বিএনপির রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তারেক রহমানের নীতি। সেই নীতিকে বাস্তবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল অতীতেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, জিলানী ও রাজিবের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দল অতীতেও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। সংগঠনটি ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।![]()