ঢাকা
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের মানসিকতা নয়, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ এড়িয়ে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশ নিশ্চিত করা। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ অর্জন করেছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের যোগ্যতার জোরেই এ অবস্থানে পৌঁছেছেন।
তিনি বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। এমনকি পরীক্ষা পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্তানদেরও অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
পেশাজীবনের শুরুতে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক দুটিই সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি এবং সম্মানীও বাড়বে। তাই অর্থের পেছনে ছুটে নয়, নিজেকে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মামলা পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও এ পেশার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই বাণিজ্যিক মামলার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু মামলা বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই এ পেশার প্রকৃত মর্যাদা।
নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত অধ্যয়ন ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আইন এমন একটি পেশা যেখানে প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত ড্রাফটিং, আইনি বিশ্লেষণ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই।
দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার প্রশিক্ষণব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. এম এ বাকি খলিলি। সভাপতিত্ব করেন আইন ও মানবাধিকার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।
অনুষ্ঠান শেষে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।