খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
ঢাকা: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে অ্যামচেমের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে এই সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি জানান, অ্যামচেমভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। এটিকে তিনি বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি অ্যামচেম নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আনার যে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা সরকারের সামনে এলে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সরকারের বিনিয়োগবান্ধব অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে তিনি কর্টেভা বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স–সংক্রান্ত জটিলতা মাত্র এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য আখ্যা দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী, বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তিনি বলেন, সম্ভাবনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বাভাসযোগ্য নীতি, সহজ ব্যবসা পরিবেশ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিশ্চিত করাও জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ ও বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক নেতারা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অ্যামচেমকে অভিনন্দন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাণিজ্য, আরও বিনিয়োগ, অধিক উদ্ভাবন ও নতুন কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বিনিয়োগকারী ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।