আন্তঃপ্রতিষ্ঠান আমদানি লেনদেনে বিধিমালা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যে নতুন সুযোগ, বাধ্যতামূলক হলো আর্মস লেংথ ঘোষণা
আন্তঃপ্রতিষ্ঠান (ইন্টার-কম্পানি) আমদানি বাণিজ্য সহজ করতে আমদানি ঘোষণা–সংক্রান্ত বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আমদানিকারকরা এখন তাদের মূল কোম্পানি, বিদেশে অবস্থিত অনুমোদিত সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা শাখা কার্যালয়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আমদানি বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট (এফইপিডি-১) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের নির্দেশনা সংশোধন করেছে।
এতদিন আমদানি প্রক্রিয়ায় আমদানিকারককে ঘোষণা দিতে হতো যে বিদেশি রপ্তানিকারকের সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক কিংবা আর্থিক স্বার্থ নেই। সংশোধিত নির্দেশনার ফলে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বা সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ বৈধভাবে একই করপোরেট গ্রুপভুক্ত বা সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যমান বিধান সংশোধন করা হয়েছে, যাতে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হয় এবং একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোও বজায় থাকে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনে আমদানিকারককে ঘোষণা দিতে হবে যে লেনদেনটি ‘আর্মস লেংথ’ নীতিতে, অর্থাৎ প্রতিযোগিতামূলক বাজারমূল্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট লেনদেন ট্রান্সফার প্রাইসিং–সংক্রান্ত প্রচলিত আইন, বিধি এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক (এএমএল/সিএফটি) সব ধরনের নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এ কারণে আইএমপি (ইমপোর্ট মনিটরিং পারমিট) ফরমের ১(গ) ধারায় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই—এ মর্মে যে ঘোষণা আগে দিতে হতো, সেটি আর প্রযোজ্য থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে আইএমপি ফরমে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে।
সংশোধিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের আগে প্রয়োজনীয় ঘোষণা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যথাযথ নথিপত্রের মাধ্যমে আমদানিকারক ও বিদেশি রপ্তানিকারকের পারস্পরিক সম্পর্কের বৈধতা যাচাই করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে এই সংশোধিত নীতিমালা রপ্তানি লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ লক্ষ্যে গত ৩০ জুলাই জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নং–২৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধানও সংশোধন করা হয়েছে।
তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত অন্যান্য সব বিদ্যমান বিধি ও নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে সংশোধিত নীতিমালা সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করার পাশাপাশি নির্দেশনাগুলো দ্রুত ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।
ব্যাংকিং খাত–সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে বহুজাতিক কোম্পানি ও একই করপোরেট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে নতুন এই নীতিমালা।![]()