দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) আরও একটি সমুদ্রগামী জাহাজ কিনেছে। নতুন জাহাজটি যুক্ত হওয়ায় গ্রুপটির বহরে সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮টি। এর ফলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জাহাজের সংখ্যায় শীর্ষে উঠেছে এমজিআই।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ট্রেড অ্যান্ড কমার্সের মাধ্যমে ডব্লিউ এফ আর্টেমিস মেরিটাইম এসএ থেকে ‘ডব্লিউ এফ আর্টেমিস’ নামের জাহাজটি কেনা হয়েছে। এতে অর্থায়ন করেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। জাহাজটি কিনতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।
২০২০ সালে নির্মিত বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ মিটার। এর পণ্য পরিবহনক্ষমতা ৬৩ হাজার ৫৪৭ টন। আগে জাহাজটি মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকায় চলাচল করত।
নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এত দিন এমজিআই ও কেএসআরএম গ্রুপের বহরে সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা সমান ছিল। কেএসআরএমের বহরে রয়েছে ২৭টি জাহাজ। নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়ায় এমজিআই এককভাবে শীর্ষে উঠেছে। দেশে নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৯টি।
২০১১ সালে সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনায় আসে এমজিআই। তবে ২০১৯ সালের পর এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় শিল্পগোষ্ঠীটি। পুরোনো জাহাজ কেনার পাশাপাশি নতুন জাহাজও বহরে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন জাহাজসহ ২৮টি জাহাজের সম্মিলিত পণ্য পরিবহনক্ষমতা প্রায় ১৬ লাখ টন। এ খাতে এমজিআইয়ের মোট বিনিয়োগ প্রায় ৬০ কোটি ডলার।
এমজিআইয়ের বহরে থাকা ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২৬টিই বাল্ক ক্যারিয়ার। এসব জাহাজে গম, ভুট্টা, সয়াবিনবীজ, চিনি ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের মতো খোলা পণ্য পরিবহন করা হয়।
এমজিআই দেশের অন্যতম বড় শিল্পপণ্য ও নিত্যপণ্য আমদানিকারক। অপরিশোধিত চিনি, ভোজ্যতেলের কাঁচামাল, গমসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে নিজেদের জাহাজ ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করেও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।
জাহাজে বিনিয়োগের সুবিধা সম্পর্কে এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এর আগে বলেছিলেন, নিজেদের পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং দক্ষ নাবিকদের কর্মসংস্থান—এই তিনটি সুবিধা পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কারণেই জাহাজ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
এমজিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রুপটির অধীনে ৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।