সিফাত বন্যা
অভিনেতা রিফাত চৌধুরী বলেছেন রাষ্ট্রকে একজন নাগরিককে আগে হোল্ডিং নাম্বার দিতে হবে।। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র।। হোল্ডিং নাম্বার হলো বসবাসের উপযোগী স্হান বা ঘর।। একখন্ড জমি।। রাষ্ট্র তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।। এজন্যই তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেননি।। কারণ রাষ্ট্র তাঁকে মানুষের জীবনযাপনের মৌলিক অধিকারই দিতে পারেনি কিন্তু একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিতে চেয়েছে।। যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।।
তিনি বলেছেন মিডিয়ার ৮০% শিল্পী অবহেলিত।। এবং তিনি নিজেও সবার কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছেন।। তাঁর এখন না ঠকলেই বরং খারাপ লাগে।। তাঁকে টাকা কম দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।। অথচ তিনি অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত কাজ করেছেন।। তাঁর এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়,,বাংলাদেশের নাটক সিনেমার ইন্ড্রাষ্টি বলে কিছু নেই।। আছে অনৈতিক কিছু মানুষের বাণিজ্যিক ব্যবস্হা।। যাকে শিল্প বলা চলে না।। শিল্পের মুখোশে কসাইখানা বলা চলে বড়জোর।। কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতারাও অমানবিক এবং বাণিজ্যিক এ মন্তব্যে স্পষ্টই বোঝা যায়।। কারণ কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতারাই নাটকের বাজেটের ৮০% টাকা নিয়ে যায়।। বাকীদের কথা চিন্তা করেন না।। সুতরাং তারা বাণিজ্যিক কসাই।। শিল্পী নন।।
তিনি বলেছেন টাকা আমি কেন কামাবো,,টাকা আমাকে কামাবে।। কিন্তু সেটা আমি এই দেশে জন্ম নিয়েছি বলে হয়নি।। অর্থাৎ তিনি বুঝিয়েছেন যে তিনি গুণী।। কিন্তু তাঁকে যথেষ্ট ব্যবহার করতে পারেনি এই দেশ।।
তিনি বলেছেন কালচারাল টেররিজম এর কথা।। অর্থাৎ শিল্পের নামে সংগঠনগুলোকে তিনি কালচারাল টেরোরিস্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।। এই কালচারাল টেরোরিস্টরা শিল্পের সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন করে।। এরা ক্ষমতার লোভেই সংগঠন করে।। কালচারাল সংগঠনের মাধ্যমে মুলত শিল্পীর কোন উপকার হয়না।। তবে নেতা পর্যায়ের কিছু মানুষের আখের গুছিয়ে যায়।। তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য আমার কাছে এটা মনে হয়েছে।।
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন প্রতিটি নাগরিক মূল্যবান।। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে মনে হয়েছে হাসপাতালে নাগরিকদের মূল্যবান মনে করা হচ্ছে না।। সাংবাদিক তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বললেও রাষ্ট্রের সরকারি হাসপাতাল তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতো দূরে থাক,,নাগরিক হিসেবেই গণ্য করছেন না।। এভাবেই তিনি হাসপাতালের অব্যবস্হাপনা তুলে ধরেছেন।।
তিনি বলেছেন একজন অভিনেতা তাঁর চেয়ে কম সময় অভিনয় করে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছেন।। কিন্তু তিনি বেশি সময় স্ক্রিনে থেকেও কম টাকা পাচ্ছেন।। তাঁকে পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেতা বলে ঠকানো হচ্ছে।। তিনি আর কোনদিন অভিনয় করতে চাননা।। এ কথায় স্পষ্ট বোঝা যায় কেন্দ্রীয় চরিত্রের শিল্পীদের যে মূল্যায়ন করা হয় সেই মূল্যায়ন আর কাউকে করা হয়না।। অথচ প্রতিটি চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ।। গুরুত্বপূর্ণ বলেই ডিরেক্টর চরিত্রগুলো গল্পে রাখেন।। কোন মানুষের জীবন তো একা একা চলে না।। সকল চরিত্র কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।। আর শিল্পী তো শিল্পীই।। সেখানে শ্রেণী বৈষম্য কেন হবে?? সবমিলিয়ে তথাকথিত ইন্ড্রাষ্টির নোংরা চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন।।
তিনি কবি।। কিন্তু কবি হয়ে এই দেশ থেকে তিনি কিছু পাননি।। একটি হোল্ডিং নাম্বারও তিনি পাননি।। তিনি টাকার জন্য,,জীবনযাপনের জন্য অভিনয় করতেন।। সেখানেও তিনি বাজে ভাবে ঠকেছেন।। তাই তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন ফ্রান্সে জন্ম হলে আমার মূল্য থাকতো।। এই মন্তব্যে স্পষ্টই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কবি সাহিত্যিকদের অবহেলার নিদারুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।।
তিনি বলেছেন তিনি রক্তের সম্পর্কে বিশ্বাসী নয়।। সবাই তাঁর পরিবার।। একাকীত্ব তাঁর দূর্বলতা নয়।। তিনি এটা অর্জন করেছেন।।
মানুষ মূলত একাই।। আবার একাই চলে যায়।। সুতরাং তিনি বলতে চেয়েছেন তিনি সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা করেই জীবনকে বোঝেন এবং সেভাবেই যাপন করেন।। এবং এটাই তাঁর পছন্দ।।
তিনি বলেছেন সরকারের সহযোগিতা তিনি নিবেন না।। কারণ সরকার নিজেই জনগণের টাকায় চলে ।। তাঁকে কোন মানুষ ভালোবেসে কিছু দিলে তিনি তা গ্রহণ করবেন।। অর্থাৎ তিনি সরকারকে দায়মুক্ত করেছেন।।
একজন রিফাত চৌধুরী এই দেশে সচারাচর জন্মায় না।। অথচ এই তথাকথিত শিল্পী সমাজ তাঁকে ঠকিয়েছে।। রাষ্ট্রও তাঁকে মূল্যায়ন করেনি।। কি দূর্ভাগা জাতি আমরা!! আহা!!![]()