মিনহাজ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ইতালির রাজধানী রোমের মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকশিল্পী ও নগরবাউল জেমস। আগামী ১৬ আগস্ট রোববার রোমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত লাইভ কনসার্ট। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি দেখার ও তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয় গান শোনার সুযোগকে কেন্দ্র করে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এখন তুমুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
জেমসের গান বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে যেমন কয়েক প্রজন্মের শ্রোতাকে প্রভাবিত করেছে, তেমনি দেশের বাইরে বসবাসরত বাঙালিদের কাছেও তাঁর গান নস্টালজিয়া, আবেগ ও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্কের এক বিশেষ মাধ্যম। ফলে এক যুগ পর রোমে তাঁর ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কনসার্টকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ও সংগীতপ্রেমীর উপস্থিতিতে জমে উঠবে এবারের আয়োজন।
কনসার্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সাংবাদিক, স্পনসর, কমিউনিটি নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গেট টুগেদার ও প্রেস কনফারেন্স’। বৃহস্পতিবার বিকেলে রোমের একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।![]()
আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নগরবাউল জেমস। দীর্ঘ এক যুগ পর রোমের মঞ্চে গান পরিবেশন করতে যাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে নিজের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের কথা জানান তিনি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আবারও সরাসরি দেখা হওয়ার সুযোগকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।
জেমসের বক্তব্যে উঠে আসে প্রবাসীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও। দেশের বাইরে বসবাস করলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলা গান, সংস্কৃতি ও শিল্পীদের প্রতি যে ভালোবাসা ধরে রেখেছেন, তা শিল্পীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রবাসীদের ভালোবাসা ও সমর্থন সবসময়ই শিল্পীদের নতুন করে উৎসাহিত করে বলেও জানান জনপ্রিয় এই শিল্পী।
কনসার্টের প্রস্তুতি ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন জেমস। সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একটি বড় আয়োজন সফল করতে আয়োজক, শিল্পী, দর্শক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।![]()
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জেমস। বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত ও আধুনিক সংগীতের বিকাশে আইয়ুব বাচ্চুর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের সংগীতাঙ্গনের যাঁরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছেন, তাঁদের অবদান কখনোই ভোলার নয়।
একই সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতকে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও পরিবেশনা বদলালেও বাংলা গানের মূল শক্তি ও আবেগকে ধরে রাখার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের শিল্পীদেরই নিতে হবে।
এদিকে জেমসের রোম সফর ও কনসার্টের খবর ইতোমধ্যে ইতালির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে রোমে বসবাসরত সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আলাদা উচ্ছ্বাস। অনেকেই দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি মঞ্চে দেখার সুযোগকে বিশেষ একটি ঘটনা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কনসার্টের প্রচার ও প্রস্তুতি নিয়ে চলছে আলোচনা।![]()
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বিদেশের মাটিতে বাংলা গানের আয়োজন শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভাষা, সংস্কৃতি ও শেকড়ের টান। কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনে নিজেদের দেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর সেই আয়োজনের মঞ্চে যখন জেমসের মতো জনপ্রিয় একজন শিল্পী উপস্থিত হন, তখন আগ্রহ ও প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়।
জেমসের গানের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রজন্মের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ব্যান্ডসংগীতের মাধ্যমে তিনি যে স্বতন্ত্র সংগীতধারা তৈরি করেছেন, তা দেশের সীমানা পেরিয়ে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাঁর কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য, মঞ্চ পরিবেশনার ধরন এবং জনপ্রিয় গানগুলো শ্রোতাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে রেখেছে।
ফলে রোমের এবারের কনসার্টে শুধু নতুন গান নয়, জেমসের বহুল জনপ্রিয় পুরোনো গানগুলোও শ্রোতারা শুনতে চাইছেন। দীর্ঘ এক যুগের বিরতির পর একই মঞ্চে শিল্পী ও শ্রোতার এই মিলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও দর্শকদের জন্য একটি প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য সংগীতসন্ধ্যা উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট রোববার ‘দেশি ইভেন্ট’-এর আয়োজনে রোমের মেট্রো পিরামিদে, তেস্তাচ্চিও এস্টেটে অনুষ্ঠিত হবে নগরবাউল জেমসের লাইভ কনসার্ট। অনুষ্ঠানের ঠিকানা লার্গো দিনো ফ্রিসুল্লো, ০০১৫৩ রোমা, ইতালি। অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল ৫টায়।
কনসার্টের টিকিট বিক্রিও চলছে। যারা এখনো টিকিট সংগ্রহ করেননি, তাদের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিকিট ও অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে হোসাইন আহমেদ মোয়াজের সঙ্গে। যোগাযোগ নম্বর: +৩৯ ৩২৯ ৪৭৬৭২৭২।
আয়োজকরা বলছেন, দীর্ঘ এক যুগ পর রোমের মঞ্চে জেমসের উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক মুহূর্ত। প্রবাসে বসে বাংলা গান ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে একটি আনন্দঘন মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হবে এ আয়োজনকে ঘিরে।
বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এ কনসার্ট আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। দেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রজন্মের পাশাপাশি বিদেশে বেড়ে ওঠা তরুণদের অনেকের কাছেই বাংলা ব্যান্ডসংগীত ও জেমসের গান পরিচিত। ফলে একই মঞ্চে বিভিন্ন বয়সী শ্রোতার সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
রোমে বসবাসরত প্রবাসীদের অনেকেই বলছেন, বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন পর পরিচিত কোনো শিল্পীর লাইভ পরিবেশনা তাদের কাছে শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; বরং এটি দেশের স্মৃতি, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার একটি উপলক্ষ। জেমসের কনসার্টকে ঘিরে সেই আবেগই এবার আরও বড় পরিসরে প্রকাশ পাচ্ছে।
এক যুগ পর রোমের মঞ্চে নগরবাউল জেমসের প্রত্যাবর্তন তাই ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে নিছক একটি কনসার্ট নয়। এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে প্রবাসীদের পুনর্মিলন, বাংলা গান ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে সংযোগ এবং প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে একটি বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। এখন অপেক্ষা শুধু ১৬ আগস্টের। সেদিন বিকেল ৫টায় রোমের মেট্রো পিরামিদে যখন মঞ্চে উঠবেন নগরবাউল জেমস, তখন তাঁর গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে প্রস্তুত হাজারো প্রবাসী বাঙালি।