খেলাপি ঋণ আদায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে শাখা ব্যবস্থাপকদের নির্দেশ দিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল এনআরবিসি ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া এসব নির্দেশনা দেন। ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. তৌহিদুল আলম খান সভাপতিত্ব করেন। এতে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবুল বশর, মো. আনোয়ার হোসেন ও ব্যারিস্টার মো. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান এবং ডিএমডি ও চিফ বিজনেস অফিসার মো. শাহীন হাওলাদারসহ ব্যাংকের সব বিভাগীয় ও আঞ্চলিক প্রধান এবং ১০৯টি শাখার ব্যবস্থাপক সম্মেলনে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘একটি টেকসই ব্যাংক গড়ে তুলতে সর্বস্তরে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান দায়িত্ব আমানতকারীদের অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, চলতি বছরের বাকি সময়ে খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে শাখাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। ঋণ আদায় কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করার পাশাপাশি প্রতিটি শাখাকে নিজ নিজ এলাকার ঋণগ্রহীতাদের অবস্থা পর্যালোচনা করে আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান একই সঙ্গে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্যে আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা, ব্যাংকের সুশাসন এবং স্বচ্ছ ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
সম্মেলনে সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাংকের ভূমিকা জোরদারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
এ সময় বাংলা কিউআর, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ও রেমিট্যান্স কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি এসব সেবার পরিধি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি।
ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ার প্রেক্ষাপটে গ্রাহকের দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও সম্মেলনে গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশেষ করে বাংলা কিউআরের মতো আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
অর্ধবার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবসা ও কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়। শাখাগুলোর কার্যক্রম, আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও আদায়, গ্রাহকসেবা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
ব্যাংকের এমডি ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, ‘সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে এনআরবিসি ব্যাংককে এগিয়ে নিতে হবে। দ্রুত ও নিরাপদ ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জন করে ব্যাংকের আমানত বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, গ্রাহকের আস্থা অর্জন ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ জন্য দ্রুততার সঙ্গে সেবা দেয়ার পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। শাখা পর্যায়ে গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেয়ায় শাখা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়, আমানত সংগ্রহ এবং নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে শাখাগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঋণ বিতরণের পর তা সময়মতো আদায় না হলে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা, আয় ও মূলধন সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন ঋণ বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যমান ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই বাস্তবতায় এনআরবিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হলো। চলতি বছরের বাকি সময়ে ঋণ আদায়কে অগ্রাধিকার দেয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সম্মেলনে দেয়া নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়।
একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়ায় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
অন্যদিকে সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর পাশাপাশি রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের নির্দেশনা ব্যাংকের ব্যবসায়িক কৌশলে বহুমুখী কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমানত বাড়ানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল সেবা ও গ্রাহকসন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন এমডি ও সিইও।
সম্মেলনের মাধ্যমে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য ব্যাংকের শাখা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। খেলাপি ঋণ আদায়, আমানত বৃদ্ধি, সিএমএসএমই অর্থায়ন, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সুশাসন ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নকে সামনে রেখে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।![]()