গ্যাস সংকটে রপ্তানি, শ্রমিকের বেতন ও ঋণ পরিশোধ হুমকিতে: বিকেএমইএ সভাপতি
দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দেশের শিল্প খাত ভয়াবহ মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, আগামী ১০ আগস্টের আগে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রায় ২৫ দিন উৎপাদন কার্যত বন্ধ থাকবে, যার প্রভাব পড়বে রপ্তানি, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো সম্ভব না হলে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে, যার খরচ মোট রপ্তানি মূল্যের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যথায় ক্রেতাদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিতে হবে।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাদের মূলধনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে মাসের প্রথম সাত কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। এতে শ্রম অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে অনেক প্রতিষ্ঠান খেলাপি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
তিতাস গ্যাসের ভূমিকারও সমালোচনা করেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহ দিতে না পারলেও বিকল্পভাবে সিলিন্ডারের মাধ্যমে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অবস্থান থেকে সরে আসতে তিতাসকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য জ্বালানিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সহনশীল ও বাস্তবসম্মত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি আয় এবং কর্মসংস্থানের ওপর এর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।