চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে জোরালো প্রবৃদ্ধি, বেড়েছে ২৩.৪ শতাংশ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম এক মাস দুই দিনের ব্যবধানে দেশে ৩.১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩.৪ শতাংশ বেশি। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার এবং প্রবাসীদের আস্থার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৩.১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২.৫৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা শতকরা হিসাবে ২৩.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগস্ট মাসের শুরুতেও প্রবাসী আয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। শুধু ২ আগস্ট একদিনেই প্রবাসীরা ১৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এর ফলে আগস্টের প্রথম দুই দিনেই মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম দুই দিনে দেশে এসেছিল মাত্র ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাহ বেড়েছে ৩৫১.৬ শতাংশ। মাসের শুরুতেই এমন প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
এর আগে জুলাই মাসেই দেশে আসে ২.৮৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড। জুলাইয়ের এই রেকর্ড প্রবাহের ধারাবাহিকতাই আগস্টের শুরুতেও বজায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা, দ্রুত লেনদেনের সুবিধা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের আয় দেশে পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়বে, আমদানি ব্যয় মেটাতে চাপ কমবে, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলবে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য উন্নত হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল লাখো পরিবারের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ সক্ষমতাও বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রত্যাশা, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরজুড়েই রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকবে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।![]()