চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করাকে বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী মর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য কমরেড ঝাও জুনমিন।![]()
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে। চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সুবিধাকে বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করে অর্থনীতির পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।![]()
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর চীন থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি হলেও বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। এ বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বিনামূল্যে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র এবং ২ হাজার বর্গকিলোমিটার সুবিধার স্টোরেজ বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি বলেন, কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর চালু হলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ করে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানেরও প্রশংসা করেন জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।![]()