জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘কোন বিপ্লব এটা দরজায় টোকা দিচ্ছে? মাত্র ৮-৯ মাস হলো একটি সরকারের বয়স। অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা কথা আপনারা বলার চেষ্টা করছেন। বিপ্লব আপনারা কবে করেছেন? কোন বিপ্লবে আপনারা ছিলেন?’
![]()
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা আড়াইটায় সিলেট নগরের দরগাগেট এলাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি।
শ্রমিক আন্দোলনে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির মদদ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। তবে লংমার্চের মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অন্যরাও শ্রমিকদের আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘সবাই বলে আপনারা গুপ্ত। কীভাবে গুপ্ত ছিলেন? ছাত্রলীগের মধ্যে আপনারা মিশে ছিলেন, যুবলীগের মধ্যে মিশে ছিলেন। এই কারণে আপনাদের গুপ্ত বলে। কিন্তু বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। একটি নীতি ও আদর্শের জন্য লড়াই করেছে ১৭ বছর।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী জানান, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জনপ্রিয় প্রার্থীদের সমর্থন দেবেন। এ বিষয়ে নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
![]()
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরহাদ হালিম (ডোনার), কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য এম এ মালিকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
এর আগে সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রিজভী।
সেখানে তিনি বলেন, কৃষির সমন্বিত নীতিই টেকসই সমৃদ্ধির পথ। পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং কৃষকদের সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে টেকসই কৃষি বিপ্লব গড়ে তোলা সম্ভব।
উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকার শিক্ষাঋণ চালু করতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিজমি রক্ষা, কৃষকের সহায়তা এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার, বিএনপির নেতা, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজন শেষ হয়।
![]()