শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পুলিশ শ্রমিকদের পাশে রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে আশুলিয়া-বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোববার সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকার আইনগতভাবে শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টি দেখছে। এরপরও যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, তাদের কর্মকাণ্ডকে শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
![]()
তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পাশাপাশি এর পেছনে ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কেও পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারা কতটুকু জড়িত, তা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার গুজব প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, গত দুই দিন ধরে সাংবাদিকেরা সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করছেন। পুলিশের গুলিতে কোথাও কোনো শ্রমিক নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান।
![]()
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
স্কুল-কলেজ খোলা থাকায় কিছু এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি। সোমবার বিকেলে সাভারে বিকেএসপি স্কুলের এক শিক্ষার্থী শ্রমিকদের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হয় বলে উল্লেখ করেন ডিআইজি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি নির্দিষ্ট গ্রুপ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোর বিষয়টি গত চার দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। তাঁর দাবি, এসব গ্রুপে সহিংসতার ঘোষণা দেওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
![]()