ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে চালু থাকা ‘সান্ধ্য আইন’ পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারফিউর সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
‘অবরোধবাসিনী’ জানায়, গত ৩০ জুলাই থেকে তিন দফা দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে তারা। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ছাত্রী হলে গ্রাফিতি, পোস্টারিং ও মোমবাতি মিছিলের পাশাপাশি একাডেমিক এলাকায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট উপাচার্যের কাছে ১ হাজার ২০০-এর বেশি নারী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে ১০ আগস্টের সংহতি সমাবেশ থেকে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
তবে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারফিউর সময় এক ঘণ্টা শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি। শিক্ষার্থীদের দাবি, এক ঘণ্টা সময় বাড়ানো সমস্যার সমাধান নয়; বরং বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইনই পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুরুষ শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা চলাচলের সুযোগ থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার নামে নির্দিষ্ট সময়ের পর চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ফলে রাতে বাইরে থেকে হলে ফেরার সময় নারী শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
তাঁদের অভিযোগ, শুধু হলের প্রবেশের সময়সীমাই নয়, ক্যাম্পাসেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান, কার্জন হলে প্রবেশ এবং সন্ধ্যা ৭টার পর জিমনেশিয়ামের ইনডোর গেমসে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে রাতে হলের বাইরে যেতে হলে লিখিত মুচলেকা দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
‘অবরোধবাসিনী’র পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। চলাচল সীমিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ক্যাম্পাস ও হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ছাত্রী হলের গেটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা এবং প্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, সান্ধ্য আইনের কারণে টিউশন, সাংবাদিকতা, একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা নারী শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যায় পড়ছেন। অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের হলের ক্যানটিনসহ বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ‘অবরোধবাসিনী’। দাবিগুলো হলো—ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন সম্পূর্ণ বাতিল করে নারী শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা; বৈধ পরিচয়পত্রের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব নারী শিক্ষার্থীকে যে কোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থানের সুযোগ দেওয়া; এবং মা-বোনসহ নারী শিক্ষার্থীদের নারী স্বজনদের ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁদের দাবি কোনো আংশিক বা সাময়িক শিথিলতা নয়। সান্ধ্য আইন পুরোপুরি বাতিল করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও অবাধ চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি, পথসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘অবরোধবাসিনী’।![]()