দেশের অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সামিট ও যুক্তরাষ্ট্রের
মো. রিয়াজ উদ্দিন: এমডি ও সিইও, সামিট মেঘনাঘাট ১ ও ২ পাওয়ার কোম্পানিজ লি.
বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়নে সামিট গ্রুপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব একটি অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রাথমিক শর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, যা দেশের শিল্প উৎপাদন এবং নাগরিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরাসরি অবদান রাখে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে দাঁড়িয়ে এটি স্পষ্ট যে, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সামিট এবং মার্কিন উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মধ্যকার যৌথ মেলবন্ধন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অনন্য ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এখন এক বড় ধরনের গুণগত রূপান্তর ও আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্ষমতা সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যেতে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এই জায়গাটিতেই সামিট মেঘনাঘাট ১ ও ২ পাওয়ার কোম্পানিজ লিমিটেডের মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত জেনারেল ইলেকট্রিক (GE)-এর মতো জায়ান্টদের তৈরি পরিবেশবান্ধব, উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন হাই-এফিসিয়েন্সি গ্যাস টারবাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অর্থবহ প্রযুক্তিগত কোলাবোরেশন ও কৌশলগত অংশীদারত্ব কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে মার্কিন উন্নত কারিগরি জ্ঞান এবং বিশ্বমানের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা দেশের স্থানীয় প্রকৌশলীদের মধ্যে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ যখন ২০২৬ সালের পরবর্তী নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও উদীয়মান বৈশ্বিক শক্তি হয়ে ওঠার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন দেশের জ্বালানি অবকাঠামোকে আরও বেশি সুরক্ষিত ও টেকসই করে গড়ে তোলা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) টার্মিনাল স্থাপন, বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মিশ্র জ্বালানি (Energy Mix) নীতি বাস্তবায়নে মার্কিন বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্ভাবন, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নীতিকে সঙ্গী করে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের নীতিনির্ধারকদের যৌথ দূরদর্শিতা এবং আন্তরিক প্রয়াসই আগামী দিনে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেশি টেকসই, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করবে।