আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৪ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ৫৭৯ জন এবং তিব্বতে ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখনো ২,৪৮২ জন নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ৫৭৫ জন বিদেশি পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন।
বিবিসি ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আহত হয়েছেন ১,৪৭৩ জন এবং প্রায় ৪ হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের ধারণা, এ দুর্যোগে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি ট্রেকার ও তীর্থযাত্রী
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে নেপালে রয়েছেন ১,৯২৪ জন, যার মধ্যে ৫৭৫ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতে আরও ৫৫৮ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের অনেকেই হিমালয় অঞ্চলে ট্রেকিং করতে যাওয়া পর্যটক এবং কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় অংশ নেওয়া হিন্দু তীর্থযাত্রী।
নদীতে ভেসে মিলছে মরদেহ
সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে নারায়ণী নদী অববাহিকায়। চিতওয়ান, নওয়ালপরাসি পূর্ব ও পশ্চিম জেলার বিভিন্ন নদী থেকে শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বলছেন, প্রবল স্রোতে অনেক মরদেহ দূরে ভেসে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিতওয়ানের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বলেন, স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে আর জায়গা নেই। তাই মরদেহ সংরক্ষণের জন্য একটি সরকারি ভবন অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা
উদ্ধার অভিযান চলাকালেই নতুন বিপদের সতর্কতা দিয়েছে নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ। হিমবাহ ও শিলাধসের ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে একটি অস্থায়ী ব্যারিয়ার লেক তৈরি করেছে। সেই হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় দ্বিতীয় দফায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
ঝুঁকির কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনে হলে আবার অভিযান শুরু হয়।
কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ কিয়াংগং ঝাং বলেন, উজানে এখনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক বাধা রয়ে গেছে। সেটি ভেঙে গেলে নিচের উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।
কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি হিমবাহের নিচের শিলাস্তর ধসে পড়ায় বিপুল পরিমাণ বরফ ও গলিত পানি একসঙ্গে নদীতে নেমে আসে। এতে কয়েক তলা ভবনের সমান উচ্চতার পানির ঢল সৃষ্টি হয়, যা সেতু, সড়ক, ঘরবাড়ি ও জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
দুর্গত নুওয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় এখনো বহু এলাকা কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢাকা। স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে এবং সম্ভাব্য নতুন বন্যার জন্য উদ্ধার দলকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।