টানা ছয় কার্যদিবসের দরপতনের পর দেশের পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৩ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৭২ পয়েন্টে উঠেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে।
দিনের শুরু থেকেই ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। কয়েক দফা সূচকে সাময়িক সংশোধন এলেও শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থানেই লেনদেন শেষ হয়। টানা কয়েক দিনের পতনের পর বড় সংখ্যক শেয়ারের দর বাড়ায় বাজারে সূচকের এমন উত্থান হয়েছে।
মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টির দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে মাত্র ২১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৫ শতাংশেরই শেয়ারদর বেড়েছে।
অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও ছিল ঊর্ধ্বগতি। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮৭ দশমিক ৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে ৫০৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বস্ত্র, বীমা ও ব্যাংক খাতের শেয়ার। লেনদেনের শীর্ষে ছিল আইপিডিসি, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রি, এনভয় টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
ক্লোজিং প্রাইসের হিসাবে এদিন সর্বোচ্চ দর বেড়েছে আল-হাজ্ব টেক্সটাইলস, ওরিয়ন ইনফিউশন ও শমরিতা হাসপাতালের। অন্যদিকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মঙ্গলবার মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৪ দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৯৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমেছে। ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৫টির দর বেড়েছে, ৬১টির কমেছে এবং ১৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দিন শেষে সিএসইতে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
তবে এক দিনের বড় উত্থান দিয়ে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক প্রবণতা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। টানা কয়েক দিনের পতনের পর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় মঙ্গলবার সূচকে বড় উত্থান হয়েছে। পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে লেনদেন ও শেয়ারদরের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না, সেটিই বাজারের পরবর্তী গতিপথ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ![]()