বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
‘পরিবর্তনশীল জ্বালানি প্রেক্ষাপটে পোশাক খাতে কার্বনমুক্তকরণের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাস ও অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এ আলোচনা আয়োজন করে। এতে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিজিএমইএ, আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড, তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক, উন্নয়ন সহযোগী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় তুলে ধরা হয়, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত হলে কারখানার কার্বন নিঃসরণ কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করা সহজ হবে। এর ফলে বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউটের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিলহাস তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় বাজার ক্রমেই কম কার্বননির্ভর উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। তাই বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ জরুরি।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জ্বালানি রূপান্তরকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করতে সহায়ক নীতি, উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের সমন্বয় প্রয়োজন। তাঁর মতে, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রধান চালিকাশক্তি হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের গতি বাড়ানো, জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এতে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর কার্বন হ্রাসের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি টেকসই পোশাক উৎপাদনেও নেতৃত্বের অবস্থান সুদৃঢ় হবে।![]()