গতকালকে পিজিআর এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হৃদয়গ্রাহী এক দৃশ্য চোখে পড়ে। যখন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটার জন্য তিন বাহিনীর প্রধান প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের দু’পাশে এসে দাঁড়ালেন, কেক আনা হলো, ছুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে কাটার জন্য, ঠিক ওই সময়ে তিনি হাতের ইশারায় পিজিআর এর একজন সৈনিককে ডাকলেন, আঙুল দিয়ে দেখালেন দর্শক সারিতে বসে থাকা এক বৃদ্ধা নারীকে, যেন উনাকে এখানে নিয়ে আসা হয়।
আশেপাশের কেউ বুঝতে পারছিলেন না এই বৃদ্ধা মহিলা উনি কে! সেনাপ্রধানকেও দেখা গেলো কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে আছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা শামস সাহেবকেও কিছু বলতে দেখা যায়। তিনিও আঙুল দিয়ে আবার দেখান কোন মহিলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে এ বৃদ্ধা নারীর হাত ধরে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে আসলেন পিজিআর এর সেই সদস্য।
উনাকে স্টেজে নিয়ে আসা হলে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো সেনাপ্রধান পেছনে সরে গিয়ে জায়গা করে দেন।
ওই ভদ্রমহিলাকে দিয়ে কেক কাটান তারেক রহমান। কেক কাটা শেষে সম্মান জানিয়ে আবারো উনাকে বসিয়ে দেওয়া হয় নিজ আসনে।
এই ভদ্রমহিলা নায়েক শহীদ আবু তাহেরের স্ত্রী রওশন আরা।
আবু তাহের মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেহরক্ষী ছিলেন।
জিয়াউর রহমানকে যে রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের মধ্যে খুন করা হয়, সে রাতে উনাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসে সে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেন।
তারেক রহমান ভোলেন নি উনার বাবার দেহরক্ষী সেই আবু তাহেরকে। দেহরক্ষী হিসেবে জিয়াউর রহমানের প্রতি তিনি যেই লয়্যালিটি দেখিয়েছেন, তাতে তার স্ত্রী পরিবার যথাযথ সহযোগিতা ও রেস্পেক্ট প্রাপ্য।
এরকম এক সিচুয়েশনে তারেক রহমান নায়েক শহীদ আবু তাহেরের স্ত্রীকে নোটিশ করে নিয়ে এসে স্টেজে উনার পাশে রেখে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটানোর দৃশ্যটা রিয়েলি মুগ্ধ করেছে। বিনয়, নম্রতা ও কাইন্ডনেস স্টেটসম্যানদের গ্রেট করে তোলে।