জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে কারাগারে যেতে হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬’ ও ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-২০২৬’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে শুরুতেই দরিদ্র, গৃহহীন ও অসহায় মানুষের বাড়িতে যেতে হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের তথ্য তালিকাভুক্ত করতে হবে। ভুলবশতও যেন স্বচ্ছল বা বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের দিয়ে তালিকা শুরু না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের প্যাকেজ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের কার্ড পাওয়ার সুযোগ থাকলেও অগ্রাধিকার দিতে হবে অসচ্ছল মানুষকে।
তিনি বলেন, অতীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার কথা যাদের, তাদের পরিবর্তে স্বচ্ছল ব্যক্তি কিংবা বিবাহের পর অন্য উপজেলায় চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের গাফিলতির সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দরিদ্র মানুষের ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। শুধু তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবারের বাড়িতে গিয়ে বসে তথ্য সংগ্রহের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সর্বশেষ দরিদ্র মানুষটির কাছেও তথ্য সংগ্রহকারীদের পৌঁছাতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল, এবারও কোনো ব্যত্যয় হলে ছাড় দেওয়া হবে না।
কায়সার কামাল আরও বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে যেসব উপজেলায় প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছিল, কলমাকান্দা ছিল সেগুলোর একটি। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণে কর্মসূচির সুফল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আনা হলে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।![]()