গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে বঙ্গভবনে ছিল উৎসবমুখর ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবেশ। রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বঙ্গভবনে সৃষ্টি হয় মিলনমেলার আবহ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং রাষ্ট্রপতির আন্তরিকতায় আবেগঘন এক মুহূর্তের সাক্ষী হন এহসান মাহমুদ।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঘটে যাওয়া সেই স্মরণীয় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে নিজের অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন সাংবাদিক এহসান মাহমুদ। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এক সাক্ষাতের চিত্র।
এহসান মাহমুদ লিখেছেন, বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশারায় তাকে কাছে ডাকেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে সালাম দেওয়ার পর তিনি তার কুশল জানতে চান। এ সময় পাশে থাকা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তার হাত শক্ত করে ধরেন।
এহসান মাহমুদ জানান, ওই মুহূর্তে তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুজনকেই অভিনন্দন জানান। জবাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুজনেই তাকে ধন্যবাদ জানান। অল্প সময়ের এই সাক্ষাৎ হলেও দুই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আন্তরিক আচরণে মুহূর্তটি তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে ওঠে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেও এ মুহূর্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এহসান মাহমুদ আরও জানান, ছবি তোলার সময় তিনি রাষ্ট্রপতির স্ত্রীকে সালাম করেন। তখন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুজনেই মোবাইল ফোনের দিকে চোখ রাখেন। স্বাভাবিক ও আন্তরিক পরিবেশের এই ছোট্ট ঘটনাটিও তার কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
এহসান মাহমুদের ভাষায়, বঙ্গভবনে সেদিনের এই মুহূর্ত শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ছিল না; বরং দেশের রাজনৈতিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের প্রত্যক্ষ স্মৃতি। রাষ্ট্রপতির শপথ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় এবং রাষ্ট্রপতির আন্তরিক আচরণ—সব মিলিয়ে দিনটি তার কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের এই দিনটি দীর্ঘদিন দেশবাসীর স্মৃতিতে থাকবে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন নেতৃত্ব গ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার মধ্যেই এ দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিহিত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বঙ্গভবনের এই আয়োজন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পরিসরে নতুন অধ্যায়ের সূচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর সেই ঐতিহাসিক দিনের একটি আন্তরিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে এহসান মাহমুদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য, আন্তরিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চিত্র।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ এবং সৌজন্য বিনিময় তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী ইশারায় কাছে ডেকে কুশল জানতে চাওয়া এবং রাষ্ট্রপতির হাত ধরে আন্তরিকতা প্রকাশের ঘটনাকে তিনি বিশেষ স্মৃতি হিসেবে দেখছেন।
বঙ্গভবনের সেই মুহূর্ত তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়; বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ চিত্র হিসেবেও সামনে এসেছে। এহসান মাহমুদের ভাষায়, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্টের এই দিনটি বহুকাল দেশবাসী মনে রাখবে।![]()