সংকট যত বড়ই হোক, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউএস–বাংলা গ্রুপ
রাজু আলীম
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন সময় খুব কমই এসেছে, যখন একসঙ্গে থমকে গেছে প্রায় সব দেশের আকাশপথ। বিমানবন্দরে সারি সারি উড়োজাহাজ দাঁড়িয়ে, কিন্তু নেই যাত্রীর কোলাহল। যে শিল্পের প্রাণ মানুষের চলাচল, সেই এভিয়েশন শিল্প হঠাৎ করেই পড়ে যায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটে। করোনা মহামারি শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট ছিল না; এটি ছিল বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতের অস্তিত্বের লড়াই।
বাংলাদেশও সেই অভিঘাত থেকে মুক্ত ছিল না। বরং দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা, পরিচালন ব্যয়ের চাপ এবং সীমিত অবকাঠামোর মধ্যে পথচলা বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর জন্য সংকট আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময় ইউএস–বাংলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—কীভাবে প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা যায়।
তাঁর বিশ্বাস, এভিয়েশন ব্যবসায় টিকে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি পুঁজি নয়, উড়োজাহাজও নয়; সবচেয়ে বড় শক্তি যাত্রীর আস্থা। সেই আস্থা হারিয়ে গেলে কোনো এয়ারলাইনস দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। গত শতাব্দীর শেষ দিকে একের পর এক বেসরকারি এয়ারলাইনস যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই হারিয়ে গেছে। অ্যারো বেঙ্গল এয়ারলাইনস, এয়ার পারাবাত, জিএমজি এয়ারলাইন, বেস্ট এয়ার, এভিয়ানা এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখনো নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
আবদুল্লাহ আল মামুনের মতে, এভিয়েশন এমন একটি শিল্প যেখানে শুধু বিনিয়োগ থাকলেই হয় না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক বহর, দক্ষ জনবল, সঠিক রুট পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জেট জ্বালানির উচ্চ ব্যয়, অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত নানা চ্যালেঞ্জ।![]()
তিনি বলেন, “এভিয়েশন ব্যবসায় এলে অর্থের আধিক্য থাকতে হয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এয়ারক্রাফট কেনা, রুট পরিকল্পনা এবং অভিজ্ঞ লোকবল খুব জরুরি। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন।”
করোনার আগে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস সম্প্রসারণের ধারায় ছিল। অভ্যন্তরীণ সব রুটের পাশাপাশি গুয়াংজু, চেন্নাই, কলকাতা, দোহা, মাসকাট, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংককে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছিল প্রতিষ্ঠানটি। বহরে ছিল চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ছয়টি এটিআর ৭২-৬০০ এবং তিনটি ড্যাশ–৮ কিউ–৪০০। স্বাধীনতার পর প্রথম বাংলাদেশি বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে চীনে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার কৃতিত্বও অর্জন করে তারা।
ঠিক তখনই পৃথিবীতে আঘাত হানে করোনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা, সীমান্ত বন্ধ, ভিসা জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কড়াকড়ির কারণে যাত্রী পরিবহন প্রায় থেমে যায়। বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইনসও শত শত উড়োজাহাজ মাটিতে নামিয়ে রাখতে বাধ্য হয়।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “করোনার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের এভিয়েশন শিল্প চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সবাই রীতিমতো যুদ্ধ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও ভিসা জটিলতার কারণে আকাশপথে যাত্রীসংকট চলছিল। অনেক দেশ তখনও আকাশপথ উন্মুক্ত করেনি। সব মিলিয়ে সংকট সহজে পিছু ছাড়েনি।”![]()
এই পরিস্থিতিতে ইউএস–বাংলার লক্ষ্য ছিল ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, বরং সক্ষমতা ধরে রাখা। সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা হয়। অভ্যন্তরীণ রুটেও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যাত্রীসেবা দেওয়া হয়।
সে সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করেছে ইউএস–বাংলা।”
তাঁর মতে, করোনা মহামারি ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা দিয়েছে পরিকল্পনার গুরুত্ব।
“একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি বলতে পারি, বর্তমান পরিকল্পনাই ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে পারে। করোনা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে, যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে সাজাতে হবে। আরও শিখিয়েছে, পরনির্ভর না হয়ে স্বনির্ভর হওয়ার মন্ত্র।”
তিনি মনে করেন, সংকটের সময় আবেগ দিয়ে নয়, তথ্য ও পরিকল্পনা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হয় এবং প্রতিটি বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হতে হয়।
করোনা যখন পুরো বিশ্বকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, তখনও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, মানুষ আবার ভ্রমণে ফিরবে, আকাশ আবার ব্যস্ত হবে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ইউএস–বাংলা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুবাই, আবুধাবি, কলম্বো ও মালে রুট নিয়ে কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়।![]()
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন খাত এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্পে পরিণত হয়নি। অথচ দেশের বিমান পরিবহন বাজার যথেষ্ট বড় এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক এয়ারলাইনস বাংলাদেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনো বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে। এই বাস্তবতায় স্থানীয় এয়ারলাইনসগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিচালন ব্যয় কমানো জরুরি।
তাঁর বিশ্বাস, সংকট যত বড়ই হোক, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। সেই বিশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় করোনা-পরবর্তী সময়ে ইউএস–বাংলার সম্প্রসারণে। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে প্রতিষ্ঠানটি। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি শক্তিশালী করে। আর সেই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২১টি উড়োজাহাজ লিজে আনার ঘোষণা দেয় ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস।
রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত ‘বিয়ন্ড উইথ বোয়িং’ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে। নতুন ২১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। এগুলো যুক্ত হলে ১৬টির বেশি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি বিদ্যমান রুটেও সক্ষমতা বাড়বে।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বেসামরিক বিমান চলাচল বাজারগুলোর একটি। অথচ বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের ৩০ শতাংশেরও কম সেবা প্রদান করছে। অন্যদিকে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করছে। আমরা এই বাজারে দেশীয় এয়ারলাইনসের হিস্যা বাড়াতে চাই।”![]()
তিনি জানান, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের লক্ষ্য শুধু বহর বৃদ্ধি নয়; আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে ইউরোপ, ওশেনিয়া ও উত্তর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে সরাসরি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যমান রুটগুলোতেও ফ্লাইটের সংখ্যা ও আসন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তাঁর মতে, এতে বিদেশি এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে দেশীয় সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের এভিয়েশন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই ইউএস–বাংলা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ জন তরুণ ও মেধাবী বাংলাদেশিকে পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। একই সঙ্গে ১০০ জন তরুণকে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফায়েড এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিদেশি দক্ষ জনবলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয় জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ইউএস–বাংলার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বৃদ্ধির কৌশল নয়; এটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। সরকারের নীতিগত সহায়তা, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং যাত্রীদের আস্থা—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়া দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।![]()
বোয়িংয়ের বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রেগি বলেন, ইউএস–বাংলার বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন প্রজন্মের বোয়িং উড়োজাহাজগুলো অধিক জ্বালানি-সাশ্রয়ী, পরিচালনায় নির্ভরযোগ্য এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এগুলো পরিচালন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে এবং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে ইউএস–বাংলার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বোয়িং বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন শিল্পে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ইউএস–বাংলার সঙ্গে এই চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বিমান পরিবহন খাতে সম্পর্ক আরও বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় শিল্পসংশ্লিষ্টদের কর-সুবিধার দাবির বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার পথ খুঁজে দেখা হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার উদ্যোগ শুধু ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের জন্য নয়, বাংলাদেশের পুরো এভিয়েশন শিল্পের জন্যই একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগ দেশের বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম করবে।
আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি যেমন সম্প্রসারিত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য ও পর্যটনের চাহিদাও। নতুন বিমানবন্দর অবকাঠামো, প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের বিস্তৃত সম্ভাবনা দেশের এভিয়েশন শিল্পের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সেই সম্ভাবনার কেন্দ্রেই নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় ইউএস–বাংলা।
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের বিশ্বাস, আকাশ কেবল একটি ব্যবসার ক্ষেত্র নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বৈশ্বিক সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতীক। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং যাত্রীদের আস্থা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন শিল্প শুধু দেশের চাহিদাই পূরণ করবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
রাজু আলীম
কবি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব