নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় দেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের অভিন্ন জাতীয় পরিচয় ‘বাংলাদেশী’। এখানে আলাদা কোনো ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সংবিধান অনুযায়ী সমানভাবে সুরক্ষিত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচটিআরএফ) আয়োজনে ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী। আমাদের জাতীয় পরিচয় বাংলাদেশী। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন।’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের রাজনৈতিক দল ও অংশীজনেরা সর্বসম্মতিক্রমে সম্মত হয়েছেন যে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশী’। এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার অন্যতম ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অধিকার এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের উন্নয়ন এবং জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা রেখেছে। এসব ব্যবস্থা সংবিধানেও স্বীকৃত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রেও বহু ভাষা ও জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। কিন্তু সেখানে পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি না দিয়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ বা ইউএনডিআরআইপি গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ছিল। ওই ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ওই ঘোষণা বা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১৬৯ নম্বর কনভেনশন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এই কনভেনশনের অংশীদারও নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবসহ অনেকে।