বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সময় এখনই
মোস্তফা কামাল: চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। বিগত কয়েক দশক ধরে দুই দেশের এই সুদৃঢ় অংশীদারত্ব মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি, জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহায়তার মতো প্রথাগত কিছু স্তম্ভের ওপর ভর করে বিকশিত হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে দাঁড়িয়ে এবং বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে এই চিরাচরিত সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর শীর্ষ নেতৃত্বের দূরদর্শী ভাবনা অনুযায়ী, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের একটি নতুন ও আধুনিক অধ্যায় শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময়, যা কেবল প্রচলিত লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
একটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে উদীয়মান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার এই যাত্রায় বাংলাদেশের শিল্প খাত এখন এক বিশাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে ভারী শিল্প, বড় অবকাঠামো, অটোমেশন এবং উন্নত উৎপাদন খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের সক্ষমতা বিশ্বমানে উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি। এই জায়গাটিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক গবেষণা ও শক্তিশালী শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহৎ করপোরেট খাতের বিনিয়োগ সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির এক চমৎকার কৌশলগত মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ সহযোগিতা বলতে এখন আর কেবল পণ্য আমদানি-রপ্তানি নয়, বরং মার্কিন উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানকে এ দেশের স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন বৈশ্বিক সমাধান এবং বিশ্বমানের সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা।
বাংলাদেশ যখন ২০২৬ সালের পরবর্তী নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অর্থনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা ও গুণগত মান বাড়ানো যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রথাগত খাতের বাইরে গিয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় ও উচ্চ-প্রযুক্তি নির্ভর ভারী শিল্প, রাসায়নিক খাত, টেকসই লজিস্টিকস এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পের (Green Industry) মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ কোলাবোরেশন ও বৃহৎ মার্কিন বিনিয়োগ দুই দেশের সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্ভাবন, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নীতিকে সঙ্গী করে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের নীতিনির্ধারকদের যৌথ দূরদর্শিতা এবং আন্তরিক প্রয়াসই আগামী দিনের এই দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেশি বেগবান, টেকসই ও সমৃদ্ধ করবে।