ঢাকা: বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) একটি বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক এবং জনআস্থার গণমাধ্যমে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত এবং বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যমকে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে কাজী জেসিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিটিভিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চান, যা কেবল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন হিসেবেই নয়, বরং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, “বিটিভি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৃহৎ পরিকল্পনা—তিনি বিটিভিকে একটি বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক ও জনআস্থার চ্যানেল হিসেবে দেখতে চান।”
মহাপরিচালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিটিভি নানা কারণে দর্শকের আস্থা হারিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সরকারদলীয় প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং অতীতের সেই ভাবমূর্তির কারণে এর বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার ভাষায়, “যে প্রতিষ্ঠানটিকে আওয়ামী শাসনামলে সরকার দলের এবং ফ্যাসিবাদের প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানটি অতীতেও ক্রেডিবিলিটি না থাকার কালিমায় দর্শক হারিয়েছে, এমনকি গণ-অভ্যুত্থানের পরও যেখানে কোনো পরিবর্তনের সূচনা হয়নি—সেই বিটিভিকেই প্রধানমন্ত্রী একটি ক্রেডিবল চ্যানেল হিসেবে দেখতে চান।”
কাজী জেসিন দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে পূর্ববর্তী কোনো সরকার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি। তার মতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শুধু পরিকল্পনাই করেননি, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্যোগও নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ‘নয়া বন্দোবস্ত’ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও বাস্তবে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো স্লোগান না দিয়ে নীরবে সেই পরিবর্তনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।
“মুখে নয়া বন্দোবস্তের কথা না বলেও নীরবে সেই পরিবর্তনের কাজটি করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,”—বলেন তিনি।
বিটিভির ভবিষ্যৎ রূপকল্প সম্পর্কে কাজী জেসিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা শুনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিভূত হয়েছেন। তার বিশ্বাস, বিটিভি শুধু আগের অবস্থানে ফিরে যাবে না; বরং আরও অনন্য, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, “বিটিভি শুধু তার আগের জায়গায় ফিরে আসবে না—প্রধানমন্ত্রী বিটিভিকে আরও অনন্য, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ একটি জায়গায় দেখতে চান।”
তবে এই রূপান্তরের পথ সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন বিটিভির মহাপরিচালক। তিনি বলেন, একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেয়ে বহু বছরের পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা অনেক বেশি কঠিন। তবু সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই কাজ শুরু হয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে কাজী জেসিন বলেন, “কাজটা কঠিন। নতুন কিছু গড়ে তোলার চেয়ে পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে সহজ নয়। তবে কাজটা আনন্দেরও। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছি। সকলের শুভকামনা, সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করি।”![]()