দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই কর্মীদের বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের অভিবাসন খরচ বহন করতে হবে না। সরকারি রিক্রুটিং সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে গত কয়েক মাসে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরেও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি সরকারের।
তবে কর্মী নির্বাচনের পদ্ধতি, আবেদন গ্রহণ এবং পাঠানোর সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
৩৩৮ রিক্রুটিং এজেন্সি সুযোগ পাবে
মালয়েশিয়ার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদন পেয়েছে। তাদের পাশাপাশি আরও ৩১২টি অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে। সব মিলিয়ে মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কাজ করতে পারবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে এসব এজেন্সি নির্বাচন করেছে।
১৬ মেডিকেল সেন্টার দিয়ে শুরু
বাংলাদেশের অনুরোধে বিতর্কিত ও অভিযোগে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৬টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে মালয়েশিয়ার যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে সরেজমিন পরিদর্শনের পর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করবে।
সতর্কবার্তা
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্মপ্রত্যাশীদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো অর্থ লেনদেন, মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের প্রতারণা ঠেকাতে বিমানবন্দর হয়রানি রোধ, সরাসরি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে যোগদান নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্প ডেস্ক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।