
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু মানুষের রাজনৈতিক মূল্যায়ন কেবল তাঁরা কোন পদে ছিলেন, কী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন কিংবা কতবার মন্ত্রিত্ব করেছেন—এসব দিয়ে করা যায় না। তাঁদের মূল্যায়ন করতে হয় তাঁরা কোন সময়ে দলের পাশে ছিলেন, সংকটে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজেদের কতটা অটুট রাখতে পেরেছেন, সেই বিবেচনায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনকে সেই জায়গা থেকেই দেখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য গত দেড় দশকের বেশি সময় ছিল সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক অধ্যায়গুলোর একটি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসন, একের পর এক নির্বাচন, মামলা-গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক নিপীড়ন, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চাপ, সাংগঠনিক বিভাজনের চেষ্টা এবং নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন করার নানা উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিএনপির সামনে একাধিকবার অস্তিত্বের প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে দলটির মহাসচিব হিসেবে সামনে ছিলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি শুধু একজন দলীয় মহাসচিব ছিলেন না; কার্যত দীর্ঘ সময় ধরে দলের সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সামলানোর অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি দলের নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি ধারাবাহিকভাবে আনুগত্য দেখিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন তাঁকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেন, তখন দলের ভেতরে তাঁর চেয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বা সাংগঠনিক প্রভাব থাকা অনেক নেতাই ছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তাঁকেই বেছে নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর রাজনৈতিক পরিমিতিবোধ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, পরবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহে তার প্রমাণও পাওয়া যায়।
বিশেষ করে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার সময় এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসনকালে দলের ভার সামলানো সহজ কোনো কাজ ছিল না। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন একই সময়ে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকে, তখন দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বের ওপরই পড়ে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মির্জা ফখরুল সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই—তিনি সামনে থেকেছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দলের নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেননি।
রাজনীতিতে এই গুণটি খুব সাধারণ নয়।
দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকবে, নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা থাকবে, সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও থাকবে। কিন্তু একটি সংকটকালে দলকে একসঙ্গে ধরে রাখার জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক সংযম প্রয়োজন, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সেই সংযম।
বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগ দলটির পক্ষ থেকে বহুবার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নেতাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি, নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা, নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন করা কিংবা একাংশকে নিয়ে আলাদা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে। এসব পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুলের অবস্থান ছিল দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি দৃঢ় থাকা।
বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়। দলটি নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। নির্বাচিত হওয়ার পরও মির্জা ফখরুল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে থাকলেও তিনি তা করেননি।
রাজনীতিতে এই ধরনের সিদ্ধান্তের মূল্য অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরে রাজনৈতিক চরিত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০১৮ সালের পর বিএনপির ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে। আর ২০২৩-২৪ সালে এসে সেই চাপ একেবারে ভিন্ন মাত্রা পায়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য নানা ধরনের রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দলটির অভিযোগ ছিল, নেতাদের গ্রেপ্তার, মামলা, কারাবাস এবং নানা ধরনের চাপের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল যে দল নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হলে গ্রেপ্তার নেতাদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্ব সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
মির্জা ফখরুলের জন্য সময়টি ছিল বিশেষভাবে কঠিন। তাঁকেও কারাবরণ করতে হয়েছে। জীবনে একাধিকবার তিনি কারাগারে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মোট ১১ বার কারাবরণের তথ্যও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
কারাগারের অভিজ্ঞতা কোনো রাজনৈতিক নেতার জন্যই সহজ নয়। বিশেষ করে যখন একজন নেতা জানেন, বাইরে তাঁর দল, পরিবার এবং সহকর্মীরা একই সঙ্গে চাপের মধ্যে রয়েছে। বিএনপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির নানা ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি পাশের সেলে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের শব্দ শুনিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার অভিযোগও রয়েছে।
এই সময়ের অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক জীবনের বাইরের একজন মানুষের কাছে কেবল একটি সংবাদ হতে পারে। কিন্তু যিনি সেই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছেন, তাঁর কাছে সেটি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাতেরও কারণ হতে পারে।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ভূমিকা তাই শুধু মিছিল-মিটিং কিংবা সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য দিয়ে বিচার করলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাঁর ভূমিকার বড় অংশ ছিল একটি চাপগ্রস্ত দলকে ধরে রাখা।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ পর্যায় এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের মধ্যবর্তী সময়টিও বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লেন, দীর্ঘদিন রাজনীতির সক্রিয় মাঠের বাইরে থাকলেন। তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে দলের নেতৃত্ব দিলেন। আর দেশের ভেতরে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান মুখ হয়ে থাকলেন মির্জা ফখরুল।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মির্জা ফখরুল কখনো নিজেকে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেননি। বরং তিনি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে সামনে রেখেই নিজের ভূমিকা পালন করেছেন।
এ কারণেই জিয়া পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক আনুগত্য দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যাবে না। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে যে আস্থা তৈরি হয়, সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান দেশে ফেরার পর মির্জা ফখরুলের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সম্মান সেই সম্পর্কের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঐতিহাসিক সংবর্ধনায় প্রথমে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল তাঁরই। কিন্তু মঞ্চে উঠে তিনি মির্জা ফখরুলকে সামনে ডেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একজন প্রবীণ নেতার অবদানকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি রাজনৈতিক বার্তাও এর মধ্যে ছিল।
বিদেশ সফরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তারেক রহমানের বিদায় বিনিময়ের ঘটনাটিও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কথিত আছে, সেই সময় তারেক রহমান তাঁর দুই হাত ধরে বলেছিলেন, এখন সবকিছু তাঁর দায়িত্বে।
রাজনীতিতে আস্থার প্রকাশ অনেক সময় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের চেয়েও বেশি অর্থ বহন করে।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি দিক হলো তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রশ্ন। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতি করেও তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়েছেন—এমন কোনো রাজনৈতিক চিত্র তাঁর ক্ষেত্রে খুব বেশি দেখা যায় না। বরং দলের দায়িত্ব পালনই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ এলাকার মানুষের সামনে তিনি বলেছেন, এটি তাঁর জীবনের শেষ নির্বাচন। বক্তব্যটি নিছক একটি নির্বাচনী মন্তব্য নয়। এর মধ্যে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের দীর্ঘ পথচলার একটি উপলব্ধিও রয়েছে।
যদি শেষ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে সেটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন এবং সম্ভবত শেষ অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর যদি সেটিই তাঁর সক্রিয় দলীয় রাজনীতির সমাপ্তি ঘটায়, তাহলে সেই বিদায় হবে চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলার পর একটি সম্মানজনক পরিণতি।
রাষ্ট্রপতি পদ কোনো দলের পদ নয়। সংবিধান অনুযায়ী এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি। তাই মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক চরিত্র, সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে তাঁর অবস্থানকে বিবেচনায় নিতে হবে।
তবে একজন রাজনীতিকের দীর্ঘ পথচলার শেষে তাঁর প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা এবং সম্মানও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আনুগত্য, দলীয় বিভাজন এবং ক্ষমতার হিসাব প্রায়ই রাজনৈতিক চরিত্রকে ছাপিয়ে যায়।
মির্জা ফখরুল সেই জায়গায় কিছুটা আলাদা।
তিনি হয়তো সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ নেতা নন। তিনি জনসভায় সবচেয়ে আক্রমণাত্মক বক্তাও নন। কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটে ধৈর্য ধরে দলকে সামলানো, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল থাকা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার যে সক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ।
বিএনপির সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি যদি গত দেড় দশক হয়ে থাকে, তাহলে সেই সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাস লিখতে গিয়ে মির্জা ফখরুলের নাম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার কারাবাস, অসুস্থতা, তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসন, দলের ওপর মামলা-গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে বিএনপির যে দীর্ঘ সংগ্রাম, সেখানে তিনি ছিলেন দলের দৃশ্যমান এবং নির্ভরযোগ্য মুখ।
রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত মানুষ কী রেখে যায়, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
পদ, ক্ষমতা কিংবা নির্বাচনী জয় একসময় ইতিহাসের ফুটনোট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কঠিন সময়ে পাশে থাকা, ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে অবস্থান না বদলানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা—এসবই একজন রাজনীতিকের স্থায়ী পরিচয় হয়ে থাকে।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন তাই শুধু তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন কি না, কিংবা রাষ্ট্রপতি হলেন কি না—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়।
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি কী করেছিলেন?
সেই প্রশ্নের উত্তরই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নির্ধারণ করবে।
আর যদি রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটে, তাহলে বলা যায়—চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলার শেষে তিনি এমন এক সম্মান নিয়ে বিদায় নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা, ত্যাগ, কারাবরণ, রাজনৈতিক ঝড় এবং সবচেয়ে বড় কথা—একটি কঠিন সময়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখার ইতিহাস।
রাজনীতিতে সব পুরস্কার পদ দিয়ে মাপা যায় না। কখনো কখনো সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো—দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নিজের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অক্ষুণ্ন রেখে সম্মানের সঙ্গে শেষ অধ্যায়ে পৌঁছানো।
মির্জা ফখরুলের ক্ষেত্রে সেটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাজু আলীম
কবি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব
![]()