ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান,মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ,সিলেট।
আলহামদুলিল্লাহ। আজ আমাদের একমাত্র পুত্র তানভীরের জন্মদিন।
আমার হৃদয়ের গভীর থেকে তার জন্য রইল অশেষ দোয়া, ভালোবাসা ও শুভকামনা—
শুভ জন্মদিন, প্রিয় তানভীর!
সেদিন ছিল সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর (১৫ ভাদ্র, ২০ শাওয়াল)। সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখেছিল আমাদের তানভীর। অপারেশনটি করেছিলেন প্রয়াত অধ্যাপক অরবিন্দ বড়ুয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যানেসথেশিয়ায় ডা. এ.জেড.এম. মাহবুব আহমদ, সার্জারিতে ডা. আফরোজা (টুনি আপা), আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও তৎকালীন ইন্টার্ন ডা. মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, ডা. মামুন পারভেজ, ডা. সবুর (পরবর্তীতে গাইনোকোলজির অধ্যাপক)সহ আরও অনেকে।
আমার স্ত্রী নজিফার ফুফাতো ভাই বর্তমানে খ্যাতিমান গ্যাস্ট্রো-লিভার ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীই আমাদের প্রথম অধ্যাপক অরবিন্দ বড়ুয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
অপারেশন থিয়েটারের বাইরে উৎকণ্ঠায় আমার সঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন আমার শ্বশুর মাওলানা জহুর আহমদ চৌধুরী, তাঁর ভাতিজি হোসনে আরা আহমদ—সিলেট মহিলা কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমদের স্ত্রী—তাঁর পুত্রবধূ ডা. ফাতেমা আহমদ—বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খ্যাতিমান চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. জিয়াউদ্দীন আহমদের (যুক্তরাষ্ট্র) স্ত্রী, আমার এক শ্যালক সৈয়দ আনসার আলী, আমার ভগ্নিপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম (সাবেক সচিব) এবং আমেরিকা প্রবাসী আমার প্রয়াত বন্ধু তারিকুর রশীদ চৌধুরী। আমার স্ত্রীর জন্য তখন রক্তও দিয়েছিল আমার এই প্রিয় বন্ধু।

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ,সিলেট।
অপারেশন একটু বেশি সময় নিচ্ছে দেখে আমরা সবাই আরও উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছিলাম। একপর্যায়ে ডা. ফাতেমা তাঁর শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে গেলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আমার বন্ধু ডা. মঞ্জুরকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসে হাসিমুখে বললেন— “মামা, তোমার ছেলে হয়েছে!”
