ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর সংসারজীবন তিন দশক পেরিয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে তাঁদের ঘিরে যেমন ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের গল্প সামনে এসেছে, তেমনি বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জনও। সম্প্রতি সেই গুঞ্জন ও তাঁদের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ওমর সানী। জানিয়েছেন, মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব, ধৈর্য ও জেদ এখনো তাঁকে টানে।
মৌসুমীর কোন বিষয়টি তাঁকে এখনো আকৃষ্ট করে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’![]()
স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর কাছে সন্তানদের মা। দুই সন্তান ফারদীন ও ফাইজাকে ঘিরে মৌসুমীর যত্নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওমর সানীর ভাষায়, সন্তানদের নিয়ে মৌসুমীর চিন্তা সবকিছুর আগে। মজার ছলে তিনি বলেন, খেতে বসলে খাবারের কোন অংশ ছেলে-মেয়ে খাবে, সেটিও ঠিক করে দেন মৌসুমী। তাঁর নিজের ভাগে অনেক সময় হাড়ই পড়ে থাকে।
তিন দশকের দাম্পত্যজীবনে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা যে তাঁদের দাম্পত্যের বাস্তব অবস্থা নিশ্চিত করে, এমন কোনো কথা ওমর সানীর বক্তব্যে নেই। বরং তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত জল্পনা বা লেখালেখি মৌসুমীকে বিরক্ত করে। এ প্রসঙ্গেই মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’ বক্তব্যটি মূলত বিচ্ছেদ নিয়ে প্রচারিত আলোচনা সম্পর্কে তাঁর বিরক্তি ও ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবেই এসেছে।![]()
বিচ্ছেদের গুঞ্জনের বাইরে নিজের বর্তমান অনুভূতিও স্পষ্ট করেছেন ওমর সানী। স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’
দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে একে অপরের প্রতি আস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি। মৌসুমীর স্বভাবের আরেকটি দিক উল্লেখ করে তিনি জানান, কোথাও তাঁর ভুল বা লোকসান মনে হলে মৌসুমী তাঁকে সতর্ক করেন। আবার একই সঙ্গে তাঁর প্রয়োজন ও পছন্দের বিষয়গুলোও খেয়াল রাখেন।
মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্কের শুরু চলচ্চিত্রজগতেই। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরতে তাঁদের প্রথম দেখা। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের মোহাম্মদপুরের বাসায় গেলে তাঁদের প্রথম কথা হয়। তখন অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে পারেননি মৌসুমী।![]()
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর প্রযোজকদের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তাঁরা। ছবিটির শুটিংয়ের সময় সিলেটে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। পরে সেই দূরত্বই ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।
মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ ওমর সানীকে আকৃষ্ট করে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং তাঁদের কাছের দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে গোপনে বিয়ে করেন তাঁরা। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার।
এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। চলচ্চিত্রের পর্দার জনপ্রিয় এই জুটির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যে ওমর সানী দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বিশ্বাস, ত্যাগ ও পারিবারিক বন্ধনের কথাই তুলে ধরেছেন।![]()