রামপুরা খালের ওপর নির্মিত আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগকারী ফুটওভার ব্রিজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজটি চালুর ফলে খালের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ কমবে। সরাসরি খাল পারাপারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আফতাবনগরে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ব্রিজটি পথচারীদের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, আফতাবনগর ও বনশ্রী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দুই এলাকার মানুষের সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিনের চলাচলে উল্লেখযোগ্য সময় সাশ্রয় হবে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করা এবং জনদুর্ভোগ কমানো সিটি করপোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে।
ফুটওভার ব্রিজ চালুর পাশাপাশি রামপুরা খালের ওপর আরও দুটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানান প্রশাসক। এসব ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। তার মতে, এ সংযোগগুলো চালু হলে ভবিষ্যতে এ এলাকার সড়ক যোগাযোগে বিকল্প পথ তৈরি হবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, সে সময় খালের ওপর নির্মিত ও নির্মাণাধীন ব্রিজগুলো বিকল্প বা বাইপাস রুট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এতে রামপুরা-বাড্ডা সংলগ্ন প্রধান সড়কের ওপর যানজটের চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই আবাসিক এলাকার সংযোগকারী এ ব্রিজ নির্মাণের ফলে এতদিন খালের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে যে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হতো, তা আর প্রয়োজন হবে না। বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীদের নিয়মিত চলাচলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়েরুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবির, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ডিএনসিসির এ প্রকল্পকে আফতাবনগর ও বনশ্রীর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প চলাচলব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
![]()