সংসদীয় রীতি সংশোধন এবং স্পিকারের নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত
ফরিদ উদ্দিন রনি
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদের সুপ্রিম চেয়ারের ক্ষমতায়নে চমৎকার এক ডিসিশন নিয়েছেন।
সংসদে আগে নিয়ম ছিল, সংসদ সদস্যরা সংসদে প্রবেশ করার সময়ে স্পিকারের চেয়ারের দিকে মাথা ঝুঁকে নিচু হয়ে সম্মান প্রদান করে ঢুকতে হবে, আবার বের হওয়ার সময়েও একইভাবে ঝুঁকে সম্মান দেখিয়ে বের হতে হবে।
এই প্রচলিত রীতিটি ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, আমাদের পবিত্র কুরআনে একমাত্র আল্লাহ তায়া’লা ছাড়া আর কারো সামনে মাথা নত করবার সুযোগ দেওয়া হয়নি, এটি শিরকের পর্যায়ে পড়ে।
এ বিষয়ে পূর্বে সংসদে অনেক ডিবেট হলেও কোনো চুড়ান্ত ফয়সাল হয়নি। ফলে, ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় জিইয়ে রেখে সংসদ সদস্যদেরকে অনিচ্ছাকৃতভাবে শিরক করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
উক্ত বিষয় বর্তমান সংসদেও উত্থাপন করা হয়। গত সপ্তাহে এ নিয়ে জামায়াতের ২জন এমপি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক সাহেবও স্পিকারকে বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার করতে বলেন। উনারা কী ধরনের রীতি চর্চা করবেন।
স্পিকার সেদিন তাৎক্ষণিক ফয়সালা না দিয়ে উনি জানান আপনাদের কনসার্নের ফলে সংসদের উক্ত আইনের বিধি পর্যালোচনা এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে এ বিষয়ে বিস্তার জেনে আমি আপনাদের ক্লিয়ার করব।
আজকে স্পিকার সেই বিষয়ে ফয়সালা দেন৷ প্রথমেই তিনি ভালোভাবে পয়েন্ট এড্রেস করেন, ইসলামের সঙ্গে স্পিকার চেয়ারকে ঝুঁকিয়া সম্মান জানানোটা শিরকের পর্যায়ে পড়ে, সেটি তিনি উল্লেখ করেন।
পরে তিনি জানান, আজকে থেকে ঝুঁকিয়া কিংবা নিচু হয়ে স্পিকারের চেয়ারকে সম্মান জানাবেন না; নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী সম্মান জানাবেন।
মাত্র ৩ মাসের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণে আমার কাছে মনে হচ্ছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও ‘বেটার’ একজন স্পিকার পেল এ সংসদ। তার ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতা প্রতিদিনই লক্ষ করতে পারেন সংসদের কার্যক্রমে।
সরকার দলকে যেমন প্রশ্রয় দিচ্ছেন না, একইভাবে বিরোধী দলের প্রতি অতিরিক্ত প্রেমও দেখান না। যতটুকু মনে হচ্ছে, তার সুপ্রিম চেয়ারের সম্মান বজায় রাখতে সর্বোচ্চ নিউট্রাল থাকবার চেষ্টা করছেন।
এর আগে একদিন অনেকগুলো বিল পাশ করানোর সময়ে চিফ হুইপ বিরোধীদলীয় নেতার সমর্থন নিয়ে রিকুয়েষ্ট করে বললেন, নামাজের বিরতি পরে দেওয়া হোক, আমরা আগে এই বিলগুলো পাশ করে ফেলি। নামাজ একটু পরে হোক।
বাট স্পিকার সাথে সাথেই এই প্রস্তাবটি রিজেক্ট করে দিয়ে বললেন, নামাজ তো ডিলেই করা যাবে না। বিলের জন্য নামাজ ক্যাননট ওয়েট! আগে আমরা নামাজ পড়ে ফেলি।