গত সপ্তাহের আগের বৃহস্পতিবার। নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বহিরাগত নো এন্ট্রি। সবাই জানে দাপ্তরিক কাজের চরম প্রেশার ডে।
আর তখনই কোনো প্রটোকল ছাড়া ৬ নম্বর ভবনের ১৪ তলায় হুটহাট সারপ্রাইজ ভিজিট দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী! ১৪ তলার সিঁড়ি বেয়ে নামতেই চোখ ছানাবড়া- এক দপ্তরের সামনে মানুষের এলাহী কারবার! কিলবিল করছে তদবির পার্টি! ভাবখানা এমন, যেন সচিবালয় না, ধানমন্ডি বা গুলশানের ফ্রেন্ডস ক্লাবের আড্ডাখানা!
প্রধানমন্ত্রীর মাথা ঠিক থাকবে কীভাবে?
যাদের কাজ রাষ্ট্র চালানো, তারা ফাইলের পেছনে সময় দেবে কখন, যদি সকাল থেকেই ‘স্যার একটা তদবির ছিল’ মার্কা সিন্ডিকেট দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে?!
ভিজিটের পরপরই কোনো লুকোচুরি না-
স্পটেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, পুলিশের ডিসি ও এডিসিকে সোজা পিএম অফিসে তলব! মুখোমুখি জেরা কাজের সময়ে এই ভিআইপি গ্যাদারিং কার পারমিশনে?! সরকারি অফিস কি তদবিরের হাটবাজার?!
কোনো খাতির নাই, একদম জিরো টলারেন্স ডিরেক্টিভ:
দুপুর ২টা পর্যন্ত নো আন-অফিশিয়াল এন্ট্রি! কাজ ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সপ্তাহে ভিজিটর ডে লিমিটেড- ইচ্ছামতো ঢোকার দিন শেষ। কোন মন্ত্রী বা সচিবের রুমে দিনে সর্বোচ্চ কতজন ঢুকতে পারবে- সেই কোটাও সুনির্দিষ্ট করে ফিক্সড হচ্ছে! সবচেয়ে বড় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ব্যবসায়ী আর কন্ট্রাক্টর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে যারা বছরের পর বছর পার্মানেন্ট ভিআইপি পাস বানিয়ে রাখছিল- সব রিভিউ হবে, ভুয়া পাস সোজা ডাস্টবিনে! কার টেবিলে যাচ্ছেন? কেন যাচ্ছেন? কে ঢুকাল?- এভরি সিঙ্গেল ডেইটা ডিজিটাল লগে রেকর্ড থাকবে!
এখন কথা খুব সোজা-
সচিবালয় হলো ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য লেখার জায়গা, ব্যাকডোর ডিল আর পার্সেন্টেজ ফিক্স করার ক্লাবঘর না! সরকারি অফিসারদের চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে জনতার ট্যাক্সের টাকায় পাবলিক সার্ভিসের জন্য, ব্রোকার আর ধান্ধাবাজদের চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার জন্য না!
এতদিন যারা সচিবালয়ের করিডোরে ঘুরে ঘুরে বড় ভাই সেজে ক্ষমতা বেচাকেনা করতেন, এবার দৌড়ের ওপর থাকেন! লবিং কালচার শেষ না হলে কোনো রিফর্ম টিকবে না।
দেরিতে হলেও এই বোল্ড আর আনকম্প্রোমাইজিং স্টেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট! এখন প্রশ্ন একটাই- এই কঠোর নির্দেশনা কি পেপারেই থাকবে, নাকি গার্ডরা সত্যিই গেটে লাল কার্ড দেখাবে?
লেটস সি! বাট আজকের জন্য মেসেজ ক্লিয়ার: নো মোর তদবির সিন্ডিকেট ইন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট!