সফট হয়ে এদেশে সরকার চালানো মুশকিল, আবার স্ট্রিক্ট হয়েও নিজে টিকে থাকা কঠিন। এদেশের লেয়ারে লেয়ারে এতসব বাটপার আর অসৎ লোকে ভরপুর।
ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকার হার্ড স্টেপ নেয় ২ মাস আগে। চোর-পুলিশ খেলা বাদ দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ফুটপাতের হকারমুক্ত করতে শুরু করে।
কিন্তু এরমধ্যে সরকার-বিরোধীরা উঠেপড়ে লাগে সিদ্ধান্তের বিরোধিতায়, দখলদারদের পক্ষে গিয়েই বয়ান তৈরি করতে থাকেন, গরিবের পেটে লাথি মারতেছে সরকার।
সরকারের রাস্তায়, জনগণের হাঁটা-চলার স্পেস সংকুচিত করে বছরের পর বছর ফুটপাতে দোকানপাট গড়ে তোলে তারা ব্যবসা করে আসতেছে অবৈধভাবে, তাদের উচ্ছেদে নাকি গরিবের পেটে লাথি মারতেছে!
অথচ তারাই আবার বলতেন, বিএনপির নেতারা ফুটপাতে চাঁদাবাজি করে, এদের চাঁদাবাজির জন্যই ফুটপাত টিকিয়ে রাখতেছে।
যেই না সরকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শুরু করল তখন উনারা আবার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু করেন দখলদারদের পক্ষে ইমোশনাল কার্ড দেখিয়ে।
এটাই হলো বাংলাদেশে রাজনীতির রিয়েল সিনারি।
শেষ পর্যন্ত সরকারকেও আপোষ করতে হলো। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদেরকে নির্দিষ্ট পরিসীমাতে প্রপার নিয়মকানুনের মধ্যে দোকান বসানোর অনুমতি দিলো, এখন আবার সেই আগের মতোই অবস্থা হয়ে গেল।
বেদখল ফুটপাত এখন আবার দখল হয়ে গেল। মানুষের হাঁটা-চলার রাস্তা নাই; গাড়ি চালানোর রাস্তা অর্ধেক ব্লক।
এখন সরকার নতুন করে আরেকটি শক্ত স্টেপ নিতে যাচ্ছে ঢাকাকে যানজটমুক্ত শহর করতে। দূরপাল্লার বাসগুলোর অস্থায়ী স্ট্যান্ড পরিবর্তন করার নির্দেশনা দিছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজকে মিটিংয়ে সড়ক পরিববন মিনিস্ট্রির মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী ও দুই সিটির প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রধানমন্ত্রী স্রেফ জানিয়ে দিলেন দ্রুতই সায়দাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তানের বাসস্ট্যান্ড সরাতে।
দেখবেন যে আগামীকাল থেকেই বাস ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লাগবে এ সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের সঙ্গে যোগ দিবে সরকার-বিরোধীরাও ঠিক যেভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার সময়ে উঠেপড়ে লেগেছিল।
সড়কে প্রতিদিন এসব বাস ব্যবসায় সিন্ডিকেট ঘিরে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলে। শহরে যানজট নিরাসনে শহর
থেকে বাসস্ট্যান্ডগুলো পরিবর্তন করে ঢাকার বাইরে নিয়ে গেলে এদের মাথায় হাত উঠবে, এরে কেউ বসে থাকবে না। সরকারের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু করে দিবে।
দেখবেন শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তেও সরকারকে তারা অনড় থাকতে দিবে না। দেশ অস্থিতিশীল করে তুলবে।
আপসোস লাগে, আপনি রাষ্ট্রকে বিল্ডআপ করতে সরকার প্রধান হয়ে কোনো বড় পরিকল্পনা তৈরি করবেন বাট সেটা কোনদিন এক্সিকিউট করা সম্ভব হবে না, এদেশে লেয়ারে লেয়ারে এত এত বাটপার, অসৎ লোকেরা বসে আছে যে আপনাকে সেই সুযোগ দিবে না।